
দেশব্যাপী উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোর নিরাপত্তা জোরদার, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ, অনিয়ম প্রতিরোধ এবং রোগীদের জন্য নিরাপদ চিকিৎসা পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে বরিশালের গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন সশস্ত্র অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) থেকে এসব আনসার সদস্য হাসপাতালে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, একজন আনসার কমান্ডারের নেতৃত্বে তারা তিনটি শিফটে দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে সকালে ৫ জন, বিকেলে ২ জন এবং রাতে ২ জন আনসার সদস্য দায়িত্বে থাকবেন।
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নবনিযুক্ত আনসার কমান্ডার মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করব। উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা নিয়মিত আমাদের তদারকি করবেন। পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন। রোগী, স্বজন ও স্বাস্থ্যকর্মীরা যাতে নিরাপদ পরিবেশে সেবা নিতে ও দিতে পারেন, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ভবানন্দ বাড়ৈ বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী ও স্বজনের সমাগম ঘটে। আনসার সদস্য মোতায়েনের ফলে হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা আরও নির্বিঘ্ন পরিবেশে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। একই সঙ্গে দালালচক্র, বিশৃঙ্খলা ও বহিরাগতদের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রবেশ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. তৌকীর আহমেদ বলেন, হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রোগীদের সেবার মান উন্নয়নে আনসার সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। অতীতে বিভিন্ন সময় বহিরাগতদের কারণে হাসপাতালের ভেতরে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এখন নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হওয়ায় চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও রোগীরা নিরাপদ পরিবেশে চিকিৎসাসেবা পাবেন। জরুরি বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, হাসপাতালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য কমবে, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন এবং রোগীরাও নির্বিঘ্নে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
তাদের মতে, নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি হাসপাতালের শৃঙ্খলা, সেবার মান ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।