
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে চাহিদার মাত্র ৩৫ থেকে ৪৫ শতাংশ বিদ্যুৎ মেলায় দিন-রাতজুড়ে দফায় দফায় লোডশেডিং হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও রোগীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিন কিংবা রাত—কোনো সময়ই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ মিলছে না। প্রচণ্ড গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফ্রিজে রাখা খাবার নষ্ট হওয়া সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজকর্মে চরম বিঘ্ন ঘটছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্যে নেমে এসেছে স্থবিরতা, ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত (পিক আওয়ার) আগৈলঝাড়া উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা থাকে প্রায় ১৩ মেগাওয়াট। অথচ এ সময়ে বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫ থেকে ৬ মেগাওয়াট, যা চাহিদার অর্ধেকেরও কম।
অন্যদিকে, রাত ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত (অফ-পিক আওয়ার) বিদ্যুতের চাহিদা থাকে প্রায় ৮ মেগাওয়াট। কিন্তু এ সময়ে বরাদ্দ মিলছে মাত্র ৪ মেগাওয়াট। চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যকার এই বিশাল ঘাটতির কারণেই বাধ্য হয়ে পুরো উপজেলায় ব্যাপক লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. সিদ্দিকুর রহমান জানান, "জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়ায় এই সাময়িক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। বরাদ্দ বৃদ্ধি পেলে লোডশেডিং পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে।"
গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করে তিনি পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সকলকে ধৈর্য ধারণ ও সার্বিক সহযোগিতা করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
এদিকে, টানা লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত সময়মতো পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।