প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ৮, ২০২৬, ৫:১৩ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ৭, ২০২৬, ৭:২৪ পি.এম
আগৈলঝাড়ায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে ফরম ফিলাপের অভিযোগ

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উজ্জ্বল কুমার মন্ডলের বিরুদ্ধে এসএসসি পরীক্ষায় ফরম ফিলাপে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছরের এসএসসি মডেল টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে গোপনে ৭ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে ফরম ফিলাপের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় ও ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রাজিহার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় ফরম ফিলাপের জন্য বিদ্যালয়ের ৪৪ জন শিক্ষাথী মডেল টেস্ট পরীক্ষা দেয়। এরমধ্যে ৩৪ জন শিক্ষাথী এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য কৃতকার্য হয়ে ফরম ফিলাপ করেন। স্কুলের শিক্ষক ও স্থানীয় শিক্ষাথী অভিভাবদের সিদ্বান্ত ছিল যারা মডেল টেস্ট পরীক্ষায় পাস করেনি তারা এসএসসি পরীক্ষার দেওয়ার জন্য ফরম ফিলাপ করতে পারবেন না। সকলের সিদ্বান্ত অমান্য করে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উজ্জল কুমার মন্ডল গোপনে ৭-১০ হাজার টাকা নিয়ে মডেল টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য মীম আক্তার, শিফাত হাসান, জীবন রায়কে পরীক্ষার জন্য ফরম ফিলাপ করান।
এঘটনা স্থানীয় ও পরীক্ষার্থীরা জানার পরে তাদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এঘটনা নিয়ে ওই বিদ্যালয়ে সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো.হাসানুজ্জামান মিঠু, সাহাবুদ্দিন হাওলাদার, খোকন হাওলাদার ও শাহ আলম ফকিরসহ ১০-১২ জন মিলে প্রধান শিক্ষক উজ্জল কুমার মন্ডলকে নিয়ে ২ এপ্রিল বিদ্যালয়ে শালিস-বৈঠকে বসেন। তারা ঘটনার সত্যাতা পেয়ে ওই প্রধান শিক্ষককে বাকী ৭ জন অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার ফরম ফিলাপের সিদ্ধান্ত দেন। এতে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সিদ্ধান্তে হাজির হন।
ওই বিদ্যালয়ে সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো.হাসানুজ্জামান মিঠু বলেন, এঘটনা জানার পরে প্রধান শিক্ষক উজ্জল কুমার মন্ডলকে নিয়ে সমাধানের জন্য বসা হয়েছিল। আমরা সকলে তাকে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফরম পুরনের জন্য সিদ্বান্ত দিয়েছি। তারপর থেকে সে আর বিদ্যালয়ে আসেনি।
এঘটনার সত্যাতা স্বীকার করেন রাজিহার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হরবিলাস বাড়ৈ। এব্যাপারে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক উজ্জল কুমার মন্ডল বলেন, শালিসে যে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে তিনি সেটি মেনে নেবেন কি না, তা এখনও ভেবে দেখছেন। তিনি আরও বলেন, সে সময় সামনে জাতীয় নির্বাচন থাকায় এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
এব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো.মাহাবুবুর রহমান বলেন, আপনাদের মাধ্যমে ঘটনাটি শুনেছি। স্কুল কর্তৃপক্ষ কোন অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
@2025 বাংলার বার্তা. All right reserved.