মোঃ মেহেদী হাসান
খাল পরিষ্কার করে জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি গৌরনদী উপজেলাকে পরিচ্ছন্ন ও ‘ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন’ হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা ও পৌর প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে গৌরনদী পৌরসভার ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডকে জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা করতে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ বিজয়পুর-গোসালপুরানি এলাকায় প্রায় দুই কিলোমিটার খালের ওপর নির্মিত অবৈধ বাঁধ অপসারণ ও খাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহিমের নেতৃত্বে এ কার্যক্রম শুরু হয়। কর্মসূচিতে স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে ইউএনও নিজেও খালের পাড়ের আগাছা ও আবর্জনা পরিষ্কারে অংশ নেন।
এ সময় গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব, সদস্য সচিব জহির সাজ্জাদ হান্নান, পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা হারুন অর রশিদসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন। সকাল থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম খাল পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে বলে জানানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহিম বলেন, ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রী’র রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) ও বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপনের দিকনির্দেশনায় এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে খালটি অবৈধ বাঁধ, প্লাস্টিকের বর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। এতে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশিত না হওয়ায় স্থানীয় এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছিল। জনস্বার্থে খালের অবৈধ বাঁধ অপসারণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইউএনও বলেন, ‘খালটি পরিষ্কার ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক হলে পৌরসভার ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় আড়াই হাজার পরিবার জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাবে বলে আশা করছি।’
তিনি আরও বলেন, গৌরনদী উপজেলাকে ‘ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রশাসনের এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। কর্মসূচি সফল করতে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্যদের প্রশাসনের পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি