
নারীর প্রজনন ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, যৌতুক, নারী ও শিশু নির্যাতন, পারিবারিক সহিংসতা, কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি, নারীর ক্ষমতায়ন, সাইবার অপরাধ ও মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বরিশালের গৌরনদীতে একটি সচেতনতামূলক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ১১টায় গৌরনদী উপজেলার বিল্লগ্রাম বাজারে জাতীয় মহিলা সংস্থা, গৌরনদী, বরিশাল-এর আয়োজনে এ উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জাতীয় মহিলা সংস্থার উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ইব্রাহিম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৌরনদী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসান এবং গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সোহরাওয়ার আলম বিপ্লব।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. স্নিগ্ধা নুজহাত নারীর প্রজনন স্বাস্থ্য, মাতৃস্বাস্থ্য, কিশোরীদের স্বাস্থ্যসচেতনতা ও মানসিক সুস্থতা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, "নারীর শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ, পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সুস্থ জীবনযাপন নিশ্চিত করা সম্ভব।"
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহিম বলেন, "নারীর স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় পরিবার, সমাজ এবং প্রশাসনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বাল্যবিবাহ, যৌতুক, নারী নির্যাতন ও পারিবারিক সহিংসতার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সচেতনতাই এসব অপরাধ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। উপজেলা প্রশাসন এ ধরনের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমকে সবসময় উৎসাহিত করবে।"
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন গৌরনদী উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জাহানারা পারভীন এবং গৌরনদী প্রেসক্লাবের সভাপতি জহুরুল ইসলাম জহির।
সমগ্র অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জাতীয় মহিলা সংস্থা, গৌরনদী, বরিশাল-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সহিদুল ইসলাম মৃধা।
উঠান বৈঠকে বাল্যবিবাহ, যৌতুক, নারী ও শিশু নির্যাতন, পারিবারিক সহিংসতা, কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি, নারীর ক্ষমতায়ন, সাইবার অপরাধ এবং মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের সরকারি বিভিন্ন সেবা, আইনি সহায়তা এবং নারী সুরক্ষায় বিদ্যমান আইন সম্পর্কে অবহিত করা হয়।
বক্তারা বলেন, নারীর স্বাস্থ্য, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য। তারা বাল্যবিবাহ, যৌতুক এবং সব ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
আয়োজকদের মতে, এ ধরনের সচেতনতামূলক উঠান বৈঠক নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা, অধিকার প্রতিষ্ঠা, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং একটি নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও সহিংসতামুক্ত সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।