মোঃ মেহেদী হাসান
গৌরনদী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের টরকীচর বেদে পল্লীতে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পাঁচ নারীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে ও বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে দফায় দফায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় উভয় পক্ষের চারটি বসতঘর ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে। এছাড়া একটি দোকানঘর ও একটি রান্নাঘরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের সদস্য ও স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
আহতদের মধ্যে গুরুতর কয়েকজনকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বেদে দিপু মিয়ার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন বাদী হয়ে গৌরনদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
বিরোধের সূত্রপাত
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেদে পল্লীর সরদার নাসির সরদারের মেয়ে সোনালী বেগমের সঙ্গে বেদে দিপু মিয়ার ছেলে নিলয় মিয়ার প্রায় সাত বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল।
নিলয়ের অভিযোগ, স্ত্রীর পরকীয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হতো। সম্প্রতি সোনালী বেগম পাঁচ বছরের ছেলে কারিমকে রেখে বাবার বাড়িতে চলে যান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়।
নিলয়ের অভিযোগ, এ বিরোধের জেরে বুধবার সন্ধ্যা ও রাতে তার শ্বশুর নাসির সরদার ও তার লোকজন পৃথকভাবে তাদের রান্নাঘর ও দোকানঘরে অগ্নিসংযোগ করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
তবে নাসির সরদার এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার মেয়েকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে দিপু মিয়া ও তার জামাতা নিলয় বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। এর জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে দিপুর লোকজন তার ও তার বোন নাসরিনের ঘরের টিনের বেড়া ভাঙচুর এবং তাদের মারধর করেছে।
অন্যদিকে দিপু মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে নাসির সরদার ৪০ থেকে ৫০ জন লোক নিয়ে তার ও তার বড় ভাই ইত্তি মিয়ার ভবনে হামলা চালান। তারা ঘরে প্রবেশ করে আসবাবপত্র, দরজা-জানালা ব্যাপকভাবে ভাঙচুর করেন এবং মালামাল লুট করে নিয়ে যান।
দিপু মিয়ার দাবি, এতে বাধা দিলে তার ছোট ভাই চঞ্চল (৩২), বড় ভাই ইত্তি (৪৫), ভাতিজা আরিফ সরদার (৩৫), জিহাদ (১২), মিলি বেগম (২৬), মিঠু মিয়া (৫০), টুনি বেগম (২৭) ও লুৎফন নেছা (৬৫) আহত হন। গুরুতর আহত চঞ্চল ও জিহাদকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
পুলিশের বক্তব্য
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বলেন, খবর পেয়ে বুধবার রাতে ও বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দিপু মিয়ার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন বাদী হয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে