দীর্ঘ ২১ বছরের স্থবিরতা কাটিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখছে কীর্তনখোলা নদীর তীরের কবি জীবনানন্দ দাস স্টেডিয়াম। প্রায় ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধীনে চলমান মেগা আধুনিকায়ন প্রকল্পের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। সব ঠিক থাকলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ এখানে আবারও আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ের ম্যাচ আয়োজনের জোর পরিকল্পনা করছে ক্রিকেট বোর্ড।
২০২২ সালে শুরু হওয়া এই মেগা প্রকল্পের ছোঁয়ায় স্টেডিয়ামটিতে এখন দৃশ্যমান অত্যাধুনিক প্যাভিলিয়ন, আন্তর্জাতিক মানের মিডিয়া সেন্টার, প্যাসেঞ্জার লিফট আর ইনডোর প্র্যাকটিস নেট। ইতিমধ্যে মূল পিচের কাজও শেষ হয়েছে। দীর্ঘ ২১ বছর পর নতুন করে জ্বলে উঠেছে আধুনিক ফ্লাড লাইট, যার আলোয় আলোকিত পুরো স্টেডিয়াম এলাকা। এখন শুধু অপেক্ষা আউটফিল্ডে সবুজ ঘাসের গালিচা বিছানোর।
অতীতে অব্যবস্থাপনা আর নানা অনিয়মের কারণে দীর্ঘ সময় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ম্যাচ থেকে বঞ্চিত ছিল এই মাঠ। তবে বর্তমান সংস্কারের ফলে নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় ক্রিকেটাররা।
২৯ একরের এই ভেন্যুটিতে সর্বশেষ ২০১৯ সালের ২৬শে অক্টোবর বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের টেস্ট ম্যাচের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বাদ পেয়েছিল বরিশালবাসী। এরপর আর কোনো বড় আসর বসেনি এখানে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক সহ-সভাপতি এ.কে. এম আসাদুজ্জামান খসরু বলেন, ‘৬৫ কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভেন্যুটি এখন আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের শতভাগ যোগ্যতা অর্জন করছে। ক্রিকেট বোর্ড বরিশালের ক্রিকেটপ্রেমীদের আবেগকে মূল্যায়ন করে চলতি বছরের শেষ নাগাদ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ম্যাচ এখানে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে অত্যন্ত ইতিবাচক।’
বরিশাল জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মশিউর রহমান মঞ্জু সংস্কার কাজের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে জানান, সংস্কার কাজ পুরোপুরি শেষ হলে চলতি বছরের শেষের দিকেই এখানে বড় ম্যাচ আয়োজনের একটি রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। জেলা ক্রীড়া সংস্থার নতুন অ্যাডহক কমিটি মাঠটিকে আন্তর্জাতিক মানে ফিরিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর। আউটফিল্ডের কাজ শেষ হওয়া মাত্রই আমরা বড় আসর আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।