স্টাফ রিপোর্টার মোঃ মেহেদী হাসান।
চারিদিকে গাঢ় সবুজের সমারোহ, তার মাঝেই ছআছে বিস্তৃত রক্তিম গালিচা। শরতের প্রকৃতিতে শত-সহস্র ফুটে থাকা লাল শাপলা হার মানিয়েছে ভোরের স্নিগ্ধ সূর্যকেও। প্রকৃতির বুকে নিজ হাতে আঁকা এই ‘নকশি কাঁথা’ দেখতে প্রতিদিন দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন সৌন্দর্যপিয়াসী পর্যটকরা।
বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের বাগধা বিল—যা স্থানীয়দের কাছে পরিচিত ‘লাল শাপলার বিল’ নামে। বিলের যত গভীরে যাওয়া যায়, লালের আধিক্য ততই যেন বাড়তে থাকে। শহুরে কোলাহল ছেড়ে প্রশান্তি ও গ্রামীণ আবহের স্বাদ নিতে প্রতিদিন এখানে গড়ে উঠছে বিনোদনপ্রেমীদের মেলা।
বাগধা বিল ছাড়াও পার্শ্ববর্তী আস্কোর, বারপাইকা, কড়াইবাড়ী, শুয়াগ্রাম এবং উজিরপুরের সাতলা, নয়াকান্দি ও হারতার জলাশয়গুলোতে এখন শাপলার রাজত্ব। স্থানীয়দের চিরায়ত অতিথিপরায়ণতা ও বিলের নৈসর্গিক রূপ রূপসী বাংলার পরিচিতিকে তুলে ধরছে নতুন রূপে।
ভ্রমণ তথ্য ও নির্দেশিকা
কীভাবে যাবেন
নৌপথে: ঢাকার সদরঘাট থেকে সরাসরি বিশারকান্ধিগামী লঞ্চে বাগধা পয়েন্টে নামা যায়। অথবা বরিশাল সদরে নেমে নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে ৩০ মিনিট পরপর ছাড়ে আগৈলঝাড়া-পয়সারহাটগামী বাস।
সড়কপথে: ঢাকার গাবতলী থেকে সরাসরি পয়সারহাটের বাস পাওয়া যায়। পয়সারহাট নেমে স্থানীয় যানবাহন বা ট্রলারে সহজেই বিলে পৌঁছানো সম্ভব।
দর্শনের উপযুক্ত সময়
জুন মাস থেকে শাপলা ফোটা শুরু হলেও জুলাইয়ের শেষ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বিলে শাপলার রূপ থাকে পূর্ণতায়।
দ্রুত টিপস: শাপলার তাজা রূপ দেখতে হলে ভোর ৫টা থেকে সকাল ৮টার মধ্যে বিলে উপস্থিত হতে হবে। রোদ বাড়ার সাথে সাথে ফুল পাপড়ি গুটিয়ে নেয়।
রাত্রিকালীন থাকার ব্যবস্থা
বিলের আশেপাশে বাণিজ্যিক হোটেল না থাকায় ভোরের সৌন্দর্য দেখতে পর্যটকরা স্থানীয় গ্রামবাসীদের আশ্রয়ে রাতযাপন করেন। তবে বরিশাল সদরের মানসম্মত হোটেলগুলোতে থেকেও সকালে ঘুরে আসা যায়।