রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নিজ বাসায় কয়েকজন কাছের বান্ধবীকে নিয়ে আড্ডা দিচ্ছিলেন অভিনেত্রী ও মডেল রিধিকা। এই সময়ে মজার ছলে প্রেমিক হাসিবুরকে চমকে দিতে এক বান্ধবীকে দিয়ে ফোন করান। ফোনে বলা হয়, ‘রিধি ২০টি ঘুমের ওষুধ খেয়েছে, মুখ থেকে রক্ত বের হচ্ছে, তাকে মনে হয় বাঁচানো যাবে না।’ এমন স্পর্শকাতর তথ্যটি দেওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পাশ থেকে রিধির হাসি শুনতে পান প্রেমিক হাসিবুর। আর এতেই দ্বন্দ্বের শুরু। যার শেষ পরিণতি হয় আত্মহত্যার মধ্য দিয়ে।
শনিবার ভোর রাতে প্রেমিককে ভিডিও কলে রেখে আত্মহত্যা করেন রিধিকা। এ ঘটনায় রিধিকার মা মনি বেগম বাদী হয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে প্রেমিক হাসিবুরের বিরুদ্ধে ভাটারা থানায় মামলা করেন। এই মামলায় হাসিবুরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে কারাগারে পাঠান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
এদিকে তদন্ত সংশ্লিষ্ট ভাটারা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মেহেদী হাসান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রেমিক হাসিবুর দাবি করেছেন, এক বছর আগে তাদের সম্পর্কের শুরু থেকে মৃত্যুর দিন পর্যন্ত সব কিছু ভালোই চলছিল। তবে ঘটনার দিন রিধিকার বাসায় কয়েকজন বান্ধবী বেড়াতে আসেন। তাদের মধ্যে একজন হাসিবুরকে ফোন করে জানিয়েছিলেন, রিধি ২০টি ঘুমের ওষুধ খেয়েছে। তার নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। তাকে মনে হয় বাঁচানো যাবে না। এই সময়ে রিধিকা হেসে ফেলায় বিষয়টি নিয়ে দ্বন্দ্বের শুরু হয়। ঘুমের ওষুধ খাওয়া নিয়ে মিথ্যা বলায় বাগ-বিতণ্ডা এক পর্যায়ে হাসিবুরকে ভিডিও কলে রেখে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেন রিধিকা।
পরিদর্শক মেহেদী আরও বলেন, এই সময়ে রিধিকাকে বাঁচাতে প্রেমিক হাসিবুর বাসায় থাকা বান্ধবীদের একাধিকবার ফোন করেন; কিন্তু তারা ঘুমে থাকায় ফোন ধরতে পারেননি। পরে হাসিবুর শেরেবাংলা নগরের বাসা থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত বসন্ধুরার বাসায় আসেন। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়েছে গেছে। পরে বাসার দরজায় ভেঙে রিধিকার ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামিয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান তারা। হাসপাতালে নেওয়ার পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, হাসিবুর সম্পর্কের শুরু থেকেই রিধিকাকে বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। ঘটনার আগের রাতে রিধিকা তার দুই বান্ধবী ইশান ও জান্নাতের সঙ্গে বাসায় ছিলেন। রাত ১১টার দিকে মোবাইলে হাসিবুরের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা শুরু হলে বান্ধবীদের বসার ঘরে গিয়ে ঘুমাতে বলেন রিধিকা। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে হাসিবুর ওই বাসায় উপস্থিত হয়ে রিধিকাকে ডাকাডাকি শুরু করেন। বান্ধবীরা দরজা খুলে দিলে হাসিবুর জানান, রিধিকা তার ওপর রাগ করে গলায় ফাঁস দিয়েছেন। পরে তারা ঘরে ঢুকে রিধিকাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রিধিকে মৃত ঘোষণা করেন।
ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, আত্মহত্যার সময় রিধিকা তার প্রেমিকের সঙ্গে ভিডিও কলে ছিলেন। পরে সে ঘটনাস্থলে রিধিকাকে দেখতে এলে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।