ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগে সরকার বাংলা কিউআর ব্যবহারে উৎসাহ দিলেও টাঙ্গাইলের গোপালপুরে এটি ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করার অভিযোগ উঠেছে মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, বাংলা কিউআর ব্যবহারকারী এজেন্টদের সঙ্গে ব্যবসা না করার বিষয়ে মাঠপর্যায়ে মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক এজেন্ট জানান, সম্প্রতি বিকাশের ডিস্ট্রিবিউশন হাউসের গোপালপুর, ধনবাড়ী ও মধুপুর এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজার মাঠ পরিদর্শনে গিয়ে বাংলা কিউআর ব্যবহারকারী এজেন্টদের তালিকা করেন। পরে গোপালপুরের কয়েকজন এজেন্টকে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে লেনদেন না করতে মৌখিকভাবে বলা হয়। নির্দেশনা অমান্য করলে বিকাশের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখা হবে না বলেও অভিযোগ করেন তারা।
ডিস্ট্রিবিউশন হাউসের এক প্রতিনিধি দাবি করেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কোনো এজেন্টের দোকানে বাংলা কিউআর দেখতে পেলে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের ওপর চাপ তৈরি হয়।
এদিকে ক্যাশলেস লেনদেন সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে গত ১ জুলাই থেকে বাংলা কিউআর পেমেন্ট ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রেও বাংলা কিউআর কোড থাকা বাধ্যতামূলক। ফলে এ ব্যবস্থা ব্যবহারে বাধা তৈরি হলে ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়তে পারেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে ফেনীর এক এজেন্ট রুবেল মজুমদারও বাংলা কিউআর রাখার কারণে তার এজেন্ট বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ করেন। তার দাবি, বিকাশের ব্যবসা করতে হলে দোকানে বাংলা কিউআর রাখা যাবে না বলে তাকে জানানো হয়েছিল।
গোপালপুরের উপজেলা সুপারভাইজার হুমায়ূন কবির অবশ্য বাংলা কিউআর নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার দাবি, কোনো এজেন্ট পয়েন্টে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে লেনদেন হলে বিকাশের ব্যবসা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণে এজেন্টদের বাংলা কিউআরের পরিবর্তে এজেন্টের মাধ্যমে লেনদেনে উৎসাহিত করা হয়েছে। তবে ছোট লেনদেনে আপত্তি না থাকলেও বড় লেনদেনকে তিনি অনৈতিক বলে মনে করেন।
অভিযোগের বিষয়ে বিকাশের কমার্শিয়াল বিভাগের ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড রিটেইল বিজনেসের এরিয়া ম্যানেজার এবিএম সাইদুল গণি বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিকাশের মিডিয়া বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
বাংলা কিউআর ব্যবস্থার মাধ্যমে মোবাইল ও অনলাইন ব্যাংকিংয়ে সহজে অর্থ পরিশোধ করা যায়। এতে নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি কমার পাশাপাশি জাল নোটের ঝুঁকিও কমে। সরকার আগামী ১ অক্টোবর থেকে প্রণোদনার আওতায় কিউআর লেনদেনের চার্জ মওকুফের ঘোষণাও দিয়েছে। ফলে জাতীয় পর্যায়ে বাংলা কিউআর সম্প্রসারণের উদ্যোগের মধ্যেই স্থানীয় পর্যায়ে এমন অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।