
রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন বিএনপির প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা। তাঁর দাবি, ভোট গণনার সময় কারচুপি করে প্রশাসন ফলাফল বদলে দিয়েছে। আসনটির ভোট পুনর্গণনার দাবিতে আজ শনিবার কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলার কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভ এবং অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন ধানের শীষের কর্মী-সমর্থকেরা।
আসনটিতে বিএনপির প্রার্থীরা কর্মী-সমর্থকেরা আজ দুপুর বারোটার দিকে কাউনিয়া উপজেলার কাউনিয়া বাসস্ট্যান্ডে রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন। একই উপজেলার সাহেবগঞ্জ থেকে হারাগাছ পৌরসভা পর্যন্ত রংপুর-হারাগাছ সড়কেও অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সেই সঙ্গে পীরগাছা উপজেলা পরিষদের সামনে করে ভোট পুনর্গণনাসহ জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অপসারণ চেয়েছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা।
পুলিশ ও একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুর বারোটার দিকে কাউনিয়া বাসস্ট্যান্ডে ওই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির প্রার্থী এমদাদুল হক। সেখানে তাঁর সমর্থকেরা আসনটির এনসিপি প্রার্থী আখতার হোসেনকে ‘ভোট চোর’ উল্লেখ করে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এমদাদুল হকের অভিযোগ, ভোট গণনার সময় তাঁর এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। গণনার সময় তাঁদের কোনো লোককে থাকতে দেওয়া হয়নি। প্রায় সাড়ে আট হাজার ব্যালট তাঁরা বাতিল করেছেন। মধ্যরাত পর্যন্ত আসনটির ফলাফল আটকে রেখে ভোরে প্রকাশ করেছে।
রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করায় দুপাশে কয়েক শ যানবাহন আটকা পড়ে। পরে বেলা সোয়া দুইটার দিকে সেখানে যান কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পাপিয়া সুলতানা। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ভোট পুনর্গণনার জন্য নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বিএনপি প্রার্থীকে বলতে এসেছেন।
অন্যদিকে ভোট পুনর্গণনাসহ জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অপসারণ চেয়ে পীরগাছায় বিক্ষোভ করেছেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা। আজ বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে উপজেলার কদমতলা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে যান তাঁরা। সেখানে ব্যালট পুনর্গণনার দাবিতে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেন পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম।
আজ বেলা ১১টার দিকে রংপুর হারাগাছ মহাসড়কের সাহেবগঞ্জ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাঁশ দিয়ে সড়ক বন্ধ করে ও সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকেরা। কাউনিয়ার হারাগাছ পৌরসভাতেও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন বিএনপি নেতা–কর্মীরা।
হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অশোক চৌহান বলেন, অবরোধকারীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করতে বলা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী জোট–সমর্থিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আখতার হোসেনকে বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা এনামুল আহসান।
শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে আখতার পেয়েছেন এক লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এমদাদুল হক পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট। আর জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু নাসের শাহ মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৬৬৪ ভোট।
Leave a Reply