হোয়াটসঅ্যাপে মাত্র সাত দিনের পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্ক। এরপর কথিত সেই প্রেমিক নিজেকে লন্ডনপ্রবাসী পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশে আসছেন বলে জানায়। প্রেমিকার জন্য স্বর্ণের বার ও প্রায় ৪২ লাখ টাকা সমমূল্যের ডলার নিয়ে বিমানের টিকিট কেটে রওনা হওয়ার কথাও বলে। টিকিটের ছবিও পাঠানো হয় হোয়াটসঅ্যাপে। কিন্তু পরে দেখা গেছে, সেটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত প্রতারণার ফাঁদ।
ভুক্তভোগী লিমা জানান, বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর কথিত প্রেমিক ইমরানকে ঢাকা বিমানবন্দরে কাস্টমস কর্মকর্তারা আটক করেছেন বলে ফোন করা হয়। নিজেকে নারী কাস্টমস কর্মকর্তা তামান্না আক্তার পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি জানান, ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা এবং সঙ্গে থাকা ডলার ও স্বর্ণের বারসহ আটকের কারণে তাকে ছাড়াতে ৮০ হাজার টাকা লাগবে। টাকা না দিলে তাকে জেলে পাঠানো হবে এবং সঙ্গে থাকা অর্থ ও স্বর্ণ জব্দ করা হবে।
প্রেমিককে বিপদমুক্ত করতে শ্রমিক হিসেবে কষ্ট করে জমানো ৮০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেন লিমা। কিন্তু টাকা পাঠানোর পরও কথিত প্রেমিককে ছাড়ানো হয়নি। উল্টো আরও টাকা দাবি করা হয়। পরে দুলাভাইয়ের কাছে অতিরিক্ত অর্থ ধার চাইতে গেলে পুরো বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। তখনই তিনি বুঝতে পারেন, প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়েছেন।
এ ঘটনায় তিন দিন আগে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় প্রতারণার অভিযোগে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারকদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।