প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ২৪, ২০২৬, ৫:২৫ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ২৩, ২০২৬, ১০:০৩ এ.এম
স্বামীকে কিডনি দিয়েও বাঁচাতে না পেরে ভেঙে পড়েছেন আকলিমা
ভালোবাসার মানুষকে বাঁচাতে নিজের কিডনি দান করেছিলেন স্ত্রী। অস্ত্রোপচারও সফল হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্বামীকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। স্বামীর মৃত্যুর খবর জানার পর শোকে ভেঙে পড়ে এখন অসুস্থ অবস্থায় পাগলপ্রায় দুই সন্তানের মা আকলিমা বেগম।
হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রূপসা গ্রামের পাঠানবাড়িতে। আকলিমা বেগম ও দেলোয়ার হোসেন দম্পতির এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রবাসফেরত দেলোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগে ভুগছিলেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তার দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন দেখা দেয়। স্বামীকে সুস্থ করে তুলতে তখন নিজের একটি কিডনি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন স্ত্রী আকলিমা।
গত ১৪ আগস্ট ঢাকার শ্যামলীর একটি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দেলোয়ারের শরীরে আকলিমার কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর প্রথম দুই দিন স্বাস্থ্যের কিছুটা উন্নতিও হয়েছিল। তবে তৃতীয় দিন থেকেই ডায়াবেটিসসহ নানা জটিলতা দেখা দেয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত মঙ্গলবার তিনি মারা যান।
দেলোয়ার ও আকলিমার সংসারে রয়েছে দুই কন্যাসন্তান। তাদের একজনের বয়স ১১ বছর, নাম আফরিন জান্নান ইরা। অন্যজন চার বছরের আশুরা জাহান ইভা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, স্বামীকে সুস্থ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনাই ছিল আকলিমার একমাত্র প্রত্যাশা। নিজের কিডনি দিয়েও শেষ পর্যন্ত স্বামীকে বাঁচাতে না পারার ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। বর্তমানে তার নিজেরও চিকিৎসা প্রয়োজন।
দেলোয়ারের বড় ভাই আনোয়ার হোসেন বলেন, স্বামীকে কিডনি দিয়ে আকলিমা অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দেলোয়ারের মৃত্যুর খবর প্রথমে তাকে জানানো হয়নি। পরে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি শোকে পাগলপ্রায় হয়ে পড়েছেন। অসুস্থ আকলিমার চিকিৎসার জন্য তিনি সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতার আহ্বান জানান।
দেলোয়ারের বৃদ্ধা মা শামছুন্নাহার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, পুত্রবধূ নিজের কিডনি দিয়েও তার ছেলেকে বাঁচাতে পারেননি। এখন আকলিমা নিজেই মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। তার চিকিৎসার পাশাপাশি অসহায় দুই শিশুর পাশে দাঁড়াতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
@2025 বাংলার বার্তা. All right reserved.