শুধু টিকা নয়, ভিটামিন এ–ও পায়নি শিশুরা, পুষ্টির ঘাটতিতেও হামে মৃত্যু বাড়ছে

১০ মাসের সন্তান মাহাজবিকে বাঁচানো গেল না। ৩ দিন আইসিইউতে চিকিৎসার পর হামে মৃত্যু হয় ছেলের। নাড়িছেঁড়া ধনের নিথর শরীরে মাথা ঠেকিয়ে কান্না যেন থামছে না মা শিউলি আক্তারের। গতকাল দুপুরে রাজধানীর মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের নিচতলায়।

ঠিক সময়ে টিকা না পাওয়ায় দেশের অনেক শিশু হামে আক্রান্ত হচ্ছে। মৃত্যুও বাড়ছে। শিশুরা ঠিক সময়ে ভিটামিন এ-ও পায়নি। শিশুদের মধ্যে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর হার কমে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপুষ্টি শিশুদের অবস্থাকে বেশি নাজুক করে তুলেছে। এরই মধ্যে গতকাল শুক্রবারও হামে সাতটি শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র। তাদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে গতকাল সকাল আটটা পর্যন্ত) হামের উপসর্গ নিয়ে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে এক শিশুর। এ বছর ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত সারা দেশে হামে ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৩৪৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শিশুস্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা মনে করেন, হাম প্রতিরোধযোগ্য রোগ। ঠিক সময় ঠিক পদক্ষেপ নিলে এত শিশুর মৃত্যু হতো না। টিকার পাশাপাশি শিশু পুষ্টিও তাদের সুরক্ষা দেয়।

জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ ও সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুশতাক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিশুদের ওপর একের পর এক অন্যায় করা হয়েছে। মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর পক্ষে প্রচার নেই, ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন নেই, কৃমিনাশক ঠিকমতো খাওয়ানো হয়নি। এসবই অপুষ্টি বাড়িয়েছে। এর মধ্যে ঠিক সময়ে হামের টিকা না পেয়ে শিশুরা অরক্ষিত অবস্থায় চলে যায়। তারই পরিণতি এই প্রাদুর্ভাব, এত মৃত্যু।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *