রুমিন ফারহানার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ানো সেই ওসিকে আইনজীবী সমিতির নোটিশ

পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত থাকা অবস্থায় আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ বহাল রাখার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনজুর কাদের ভূঁইয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি।

সমিতির সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী, ২০০২ সাল থেকে মনজুর কাদের ভূঁইয়া চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছেন। তবে পুলিশের চাকরিতে যোগদানের আগেই তিনি সদস্যপদ স্থগিতের জন্য আবেদন করেছিলেন বলে দাবি করেছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন সাংবাদিকদের জানান, পুলিশের চাকরিতে নিয়োজিত থাকা অবস্থায় আইনজীবী সমিতির সক্রিয় সদস্যপদ ধরে রাখা সমিতির নিয়ম ও বিধির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। এ কারণে সংশ্লিষ্ট ওসির কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আইন পেশার বাইরে অন্য পেশায় যুক্ত থেকেও যারা সমিতির সদস্যপদ বহাল রেখেছেন, তাদের শনাক্ত করার কার্যক্রম চলছে। যাচাই-বাছাই শেষে পর্যায়ক্রমে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ওসি মোহাম্মদ মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, পুলিশের চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগেই ২০০৫ সালের ৬ মে বার কাউন্সিলের কাছে আবেদন করে তিনি নিজের সদস্যপদ স্থগিত করেছিলেন। তার দাবি, শুধু তাকে নয়, একই ধরনের পরিস্থিতিতে থাকা আরও কয়েকজনকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

ওসি জানান, প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করেই সদস্যপদ স্থগিতের আবেদন করেছিলেন তিনি। ফলে তার সদস্যপদ বাতিল করার কোনো সুযোগ নেই বলে মনে করেন তিনি। চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর পুনরায় আইন পেশায় ফেরার পরিকল্পনাও রয়েছে তার।

সমিতির নোটিশের জবাবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ লিখিত ব্যাখ্যা জমা দেবেন বলেও জানিয়েছেন মনজুর কাদের ভূঁইয়া।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি সূত্রে জানা গেছে, আইন পেশায় সক্রিয় না থেকেও যারা সমিতির সদস্যপদ ধরে রেখেছেন, তাদের শনাক্ত করতে সম্প্রতি বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে গত ২৫ জুন একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সমিতি।

বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি, আধাসরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বিমা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত সদস্যদের ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে স্বেচ্ছায় সদস্যপদ স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

এই উদ্যোগের আওতায় বর্তমানে বিভিন্ন পেশায় যুক্ত সদস্যদের তথ্য ও সদস্যপদের অবস্থা যাচাই করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়ার কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তবে তার আগে করা সদস্যপদ স্থগিতের আবেদনের বিষয়ে সমিতি কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা এখনো স্পষ্ট হয়নি।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার সঙ্গে ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়ার বাকবিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শারদীয় দুর্গাপূজা চলাকালে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় নিরাপত্তা চাওয়া হলেও ওসি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেননি বলে অভিযোগ করেছিলেন রুমিন ফারহানা।

এ ছাড়া ওসির বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে সরাইল থানায় যান তিনি। রাত ৯টা পর্যন্ত ওসির কক্ষে অবস্থান করে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন সংসদ সদস্য।

এ সময় রুমিন ফারহানার সঙ্গে যাওয়া এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ওসি তার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেন মনজুর কাদের ভূঁইয়া। তার পাল্টা দাবি, ওই ব্যক্তিকে শিখিয়ে থানায় নিয়ে এসেছেন রুমিন ফারহানা।

কথোপকথনের একপর্যায়ে রুমিন ফারহানা ওসিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি তো বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন। আপনার হিস্ট্রি তো আমি জানি।’

এর জবাবে ওসি বলেন, ‘আপনি তো আওয়ামী লীগের লোকজনকে সবসময় শেল্টার দেন। তাদের ধরতে গেলে নিষেধ করেন। আমার কাছে লিস্ট আছে। আপনি রাজ্জিকে ধরতে নিষেধ করেছেন।’

তখন রুমিন ফারহানা পাল্টা জবাবে বলেন, ‘তিনি (সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রাজ্জি) তো আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত।’

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ওসির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তার পেশাগত পরিচয় নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *