
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের তাঁরাকুপি গ্রামের বাসিন্দা আবুল বশার দেওয়ান (৫৩) বিষপানের ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বুধবার (৮ জুলাই) ভোর ৫টা ১০ মিনিটে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
নিহতের পরিবার জানায়, গত ২৪ জুন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে নিজ বাড়িতে বিষপান করেন আবুল বশার। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে তাকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে প্রায় ১৪ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।
পরিবারের দাবি, গত ১১ জুন পারিবারিক বিষয় নিয়ে আবুল বশারের সঙ্গে তার স্ত্রীর বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে তার স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যান। ১২ জুন ভোরে ফজরের নামাজ শেষে বার্থী বাজারে নিজের দোকান খুলতে গেলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা তার স্ত্রীর ভাই হাবুল মৃধা, আহাদ মৃধা, সিরাজ মৃধাসহ ১০ থেকে ১২ জন তাকে অতর্কিত হামলা চালিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তিনি গুরুতর আহত হলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার পর আবুল বশার নিজেই বাদী হয়ে গৌরনদী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ২০ জুন বাড়ি ফিরলেও তিনি শারীরিক যন্ত্রণার পাশাপাশি সামাজিকভাবে নানা কটূক্তি ও অপমানের শিকার হন। এসব ঘটনার মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই তিনি বিষপান করেন বলে পরিবারের দাবি।
নিহতের বড় ভাই কামাল দেওয়ান বলেন, “আমার ভাই দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। স্ত্রী, শ্যালক ও নিজের সন্তানের আচরণ এবং সামাজিক অপমান তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। আমরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
নিহতের পরিবার হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, পূর্বে থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও বিষয়টির কার্যকর সমাধান হয়নি।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া গৌরনদী মডেল থানার তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।