বরিশালের আগৈলঝাড়ায় রাজস্ব খাতের আওতায় বিভিন্ন জলাশয়ে দেশীয় প্রজাতির পোনা মাছ অবমুক্তকরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ পুকুরে পোনা মাছ অবমুক্ত করার মধ্য দিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন।
এ সময় উপজেলা পরিষদ পুকুরে রুই, কাতল, মৃগেলসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।
পোনা মাছ অবমুক্তকালে সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, পরিকল্পিতভাবে জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশীয় মাছের প্রজাতি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক জলাশয়ের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ ধরনের উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে জলাশয়গুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
কর্মসূচিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিরুপম মজুমদার, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানজিম হোসেন তমাল, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মানিক মল্লিক, আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তপন বিশ্বাস, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোর্শেদ সজীব, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শিকদার হাফিজুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ মো. বখতিয়ার, আবুল হোসেন মোল্লা, শামছুল হক খোকন, আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি শামীমুল ইসলাম শামীম, কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি ওমর আলী সানিসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পোনা মাছ অবমুক্তকরণ শেষে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মানিক মল্লিক জানান, উপজেলার বিভিন্ন জলাশয়ে দেশীয় মাছের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা বাড়াতে পর্যায়ক্রমে এ ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের জন্য দেশীয় মাছের সহজলভ্যতা বৃদ্ধি এবং মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার উদ্যোগ আরও জোরদার হবে।
তিনি আরও জানান, জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করার পাশাপাশি দেশীয় মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণে সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এতে একদিকে যেমন মাছের উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে জলাশয়ের স্বাভাবিক জীববৈচিত্র্যও রক্ষা পাবে।












Leave a Reply