
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়নের পূর্ব গরমগল গ্রামে মোঃ জিয়া খান নামের এক রিকশাচালককে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তার জমি দখলের অপচেষ্টার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় এলাকাবাসী। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ মার্চ সকাল প্রায় ১১টার দিকে একেই গ্রামের নান্টু আলম খান নামের এক ব্যক্তি জিয়া খানের ভাঙা ঘরে অনুমতি ছাড়াই প্রবেশ করেন। এ সময় তার সঙ্গে নলচিড়া ইউনিয়নের বিএনপি ‘র সভাপতি মোঃ জামাল ফকিরসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। জিয়ার দাবি নান্টু পূর্বে আওয়ামী লীগ করেছে। এখন আবার স্থানীয় নেতাদের ধরে বিএনপি করছেন।
জিয়া খানের পরিবারের দাবি, ঘরে প্রবেশ করে নান্টু আলম খান বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন এবং একপর্যায়ে রান্নাঘরে থাকা একটি পুরনো পরিত্যক্ত ব্যাগের কাছে যান। পরে তিনি নিজের পাঞ্জাবির পকেট থেকে একটি ছোট কাগজ মোড়া সদৃশ বস্তু ওই ব্যাগে রেখে দেন বলে অভিযোগ করা হয়।
পরবর্তীতে উপস্থিত লোকজনকে তিনি জানান, জিয়া খানের কাছে ইয়াবা রয়েছে। তল্লাশির একপর্যায়ে তিনি নিজেই ওই ব্যাগ থেকে একটি কাগজ মোড়া বের করেন। তবে এর ভেতরে কী ছিল তা কাউকে স্পষ্টভাবে দেখানো হয়নি বলে দাবি করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
এ সময় নান্টু আলম খান জিয়া খানের বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগ তুললেও স্থানীয় এলাকাবাসী তা প্রত্যাখ্যান করেন। তাদের ভাষ্য, জিয়া খান একজন সাধারণ রিকশাচালক এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
গ্রামবাসীরা আরও অভিযোগ করেন, নান্টু আলম খান ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে জিয়া খান ও তার পরিবারের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে আসছেন। মূলত জমি দখলের উদ্দেশ্যেই এমন মিথ্যা অভিযোগ ও হয়রানি চালানো হচ্ছে বলে দাবি তাদের।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসী সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে নান্টু আলম খানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
Leave a Reply