
বরিশালে যে রিয়াজ ফকিরের (২৬) মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা-ভাংচুর চালিয়ে পুলিশকে মারধর করা হয়েছে, সেই রিয়াজকে চুরি মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে হাসপাতাল থেকে তাকে বরিশালের জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট সৈয়দ আবিদুল হক তাকে জেলে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
এর আগে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে আদালতে নিয়ে আসা হয় রিয়াজ ফকিরকে। আদালতে নেওয়ার পথে একইভাবে সে আবারও নিজের মাথায় নিজে আঘাত করার চেষ্টা করেন বলে দাবি পুলিশের।
কারাগারে যাওয়া রিয়াজ ফকির আগৈলঝাড়া উপজেলার ফুল্লশ্রী গ্রামের মো. সিদ্দিক ফকিরের ছেলে। গত বুধবার সন্ধ্যায় আগৈলঝাড়া থানায় পার্লারে স্বর্ণালংকার চুরির মামলার সন্দেহজনক আসামি হিসেবে রিয়াজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
তাকে আদালতে নিয়ে আসা আগৈলঝাড়া থানার এএসআই আল-আমিন বলেন, হাসপাতাল থেকে আদালতে নিয়ে আসার পথে আবারো নিজের মাথায় নিজে আঘাত করাসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়েছে রিয়াজ ফকির। ধূর্ত প্রকৃতির রিয়াজকে ২০২৫ সালের আগৈলঝাড়া উপজেলার একটি দোকানের চুরি মামলার আসামি হিসেবে নিয়ে আসা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, চিহিৃত মাদক বিক্রেতা রিয়াজ ফকির। র্যাব ও পুলিশের হাতে মাদকসহ আটক হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আগৈলঝাড়া থানায় মাদক আইনে দুটি মামলাও হয়েছে।
আগৈলঝাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাসুদ খান জানান, গ্রেপ্তারের পর তাকে থানা হাজতে রাখা হয়। রাত ১১টার দিকে হাজতখানার গ্রীলে নিজের মাথা নিজে আঘাত করে। এতে সে জ্ঞান হারিয়ে গারদের মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে। তখন প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা এবং পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে তার গ্রামে মৃত্যুর গুজব ছড়ানো হয়। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে দুই থেকে তিনশ শতাধিক নারী-পুরুষ থানায় প্রবেশ করে কর্তব্যরত এএসআই আব্দুল হালিমকে বেধরকভাবে মারধর করাসহ ৫ পুলিশ সদস্যকে আহত করে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রিয়াজ ফকিরকে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।