দেশে বছরে প্রায় দুই হাজার ৫০৯ কোটি ৪১ লাখ ডিম উৎপাদন হলেও মানুষের পুষ্টি চাহিদার তুলনায় ডিমের এই প্রাপ্যতা এখনো কম। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের (ডিএলএস) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ ডিম উৎপাদন হয় তাতে বছরে একজন মানুষ ১৪০টি ডিম খেতে পারে।অথচ পুষ্টি চাহিদা পূরণে ডিমের উৎপাদন ও ব্যবহার আরো বাড়ানো প্রয়োজন।
সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে মাথাপিছু বার্ষিক ডিমের প্রাপ্যতা ২০৮টিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ফলে বর্তমান উৎপাদন থেকে ভবিষ্যৎ চাহিদা পূরণে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বাজারব্যবস্থা এবং খামারিদের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আজ শুক্রবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব ডিম দিবস।দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘প্রোটিন শক্তি জোগায় ও সুরক্ষা দেয়’। ডিমের উচ্চমানের সম্পূর্ণ প্রোটিন, পুষ্টি, সহজলভ্যতা এবং খাদ্য নিরাপত্তায় এর ভূমিকা তুলে ধরতেই দিবসটি পালিত হচ্ছে। ১৯৯৬ সালে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এগ কমিশন (আইইসি) বিশ্ব ডিম দিবস পালনের ঘোষণা দেয়। সে হিসাবে ২০২৬ সালে দিবসটির ৩০তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর (ডিএলএস) বলছে, দেশে ডিমের উৎপাদন গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ডিএলএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে ডিমের উৎপাদন ছিল এক হাজার ৪৯৩ কোটি ৩১ লাখ। প্রায় এক দশকের ব্যবধানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে দুই হাজার ৫০৯ কোটি ৪১ লাখ। উৎপাদন বৃদ্ধির হার প্রায় ৬৮ শতাংশ।
২০৩০ সালে লক্ষ্য ২০৮টি ডিম : বর্তমানে মাথাপিছু বার্ষিক ডিমের প্রাপ্যতা ১৪০টি।২০৩০ সালের মধ্যে সেটি ২০৮টিতে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। অর্থাৎ আগামী চার বছরে মাথাপিছু প্রাপ্যতা প্রায় ৬৮টি বাড়াতে হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে দেশের মোট ডিম উৎপাদন আরো বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং খামারিদের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাণিসম্পদ পরিসংখ্যান কর্মকর্তা ড. হোসেন মো. সেলিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘১৯৯০ সালে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশ্ব খাদ্য সংস্থা একজন মানুষের জন্য সপ্তাহে দুটি করে বছরে ১০৪টি ডিমের চাহিদা নির্ধারণ করেছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশের মানুষের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ায় জীবনযাত্রায়ও পরিবর্তন এসেছে। ফলে বর্তমানে সপ্তাহে মাথাপিছু চারটি করে বছরে ২০৮টি ডিমের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কারণে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আমরা কিছুটা পিছিয়ে আছি।’
পোলট্রি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) জানিয়েছে, দেশের মানুষের জন্য উৎপাদনের এই পরিমাণ ডিমের সরবরাহ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও মাথাপিছু প্রাপ্যতার হিসাব বলছে, পুষ্টির চাহিদা বিবেচনায় আরো উৎপাদন প্রয়োজন। বিশেষ করে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, মানুষের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এবং শিশু-কিশোরদের পুষ্টি চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডিমের উৎপাদন বাড়ানো জরুরি।
রফিকুল ইসলাম নামের এক খামারি বলেন, একদিকে ভোক্তার জন্য ডিমের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে খামারি উৎপাদন খরচের তুলনায় পর্যাপ্ত দাম না পেয়ে লোকসানের মুখে পড়ছেন। এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে ছোট ও প্রান্তিক খামারিরা উৎপাদন থেকে সরে যেতে পারেন। এতে ভবিষ্যতে ডিমের সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দিবসটিতে নানা কর্মসূচি : বিশ্ব ডিম দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, ওয়ার্ল্ডস পোলট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন (বাংলাদেশ শাখা) ও বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল যৌথভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। দেশজুড়ে শোভাযাত্রা, সেমিনার ও আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছে।











Leave a Reply