কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেল ‘চ্যাটজিপিটি’ তার স্ত্রী শেরিল গেটসকে বিষপ্রয়োগে হত্যার বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছে—এমন অভিযোগ এনে ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক মার্কিন নাগরিক। নর্থ ক্যারোলাইনার শার্লট নিবাসী জেমস গেটস নামের ওই ব্যক্তি জানান, ২০২৫ সালে নিয়মিত চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথা হতো তার স্ত্রীর। সে সময়ই চ্যাটজিপিটি তাকে হত্যার পরিকল্পনা তৈরি করে দেয়।
সান ফ্রান্সিসকো সুপিরিয়র কোর্টে দায়ের করা দেওয়ানি মামলা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন গেটস। সুস্থ হওয়ার পর তিনি স্ত্রীর হাতে লেখা একটি নোট খুঁজে পান, যেখানে পরিকল্পনাটির কথা উল্লেখ ছিল এবং চ্যাটজিপিটির হিস্টোরি মুছে ফেলারও ইঙ্গিত ছিল।
পরে সে বছরের অক্টোবরে শেরিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা এবং নিষিদ্ধ পদার্থ দিয়ে খাবার বা পানীয় দূষিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
আইনজীবীদের মাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে জেমস গেটস বলেন, ‘আমার স্ত্রীকে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবহারকারী হিসেবে চিহ্নিত করেনি চ্যাটজিপিটি। কিন্তু তিনি ঝুঁকিপূর্ণ ছিলেন। আমরা সবাই কোনও না কোনও সময় এমন পরিস্থিতির শিকার হই। সে এমন এক ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন যাকে আমি আর চিনতে পারছিলাম না। আর আমি এমন একজন হয়ে উঠলাম যাকে তিনি মৃত দেখতে চেয়েছিলেন। প্রায় এক বছর ধরে আমি তার কাজগুলোর কোনও অর্থ খুঁজে পাচ্ছিলাম না। এরপর আমি তার চ্যাটের লগগুলো পড়ি। তিনি একা এই কাজ করেননি।’
মামলায় জেমস অভিযোগ করেন, চ্যাটবটটি ‘ত্রুটিপূর্ণ’ ছিল এবং শেরিলকে তাকে বিষপ্রয়োগ করতে ‘প্ররোচিত ও উৎসাহিত’ করেছিল। মামলায় আরও বলা হয়, এর ফলে তিনি তীব্র শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন।
মামলায় দাবি করা হয়, ‘তিনি (শেরিল) চ্যাটজিপিটিকে তার সবচেয়ে কাছের বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে গণ্য করতে শুরু করেছিলেন, যার ওপর তিনি তার জীবনের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরামর্শ ও সহায়তার জন্য নির্ভর করতেন। শেরিল নিজের কাজ থেকে শুরু করে তার সন্তানদের কার্যক্রমের পরিকল্পনা, ওষুধের সঠিক মাত্রা এবং বৈবাহিক সমস্যা সম্পর্কে পরামর্শ নেয়ার জন্য সবকিছুতেই এটি ব্যবহার করতেন।’
এই মামলার প্রতিক্রিয়ায় ওপেনএআই-এর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, শেরিলকে প্ল্যাটফর্ম থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।












Leave a Reply