জামায়াতকে আর ইসলামিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যাবে না: রাশেদ খাঁন

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীনের বিজয়কে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে একের পর এক সমালোচনামূলক মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি বলেছেন, জামায়াতের ‘জান্নাতের টিকিট’ দেখিয়ে ভোট পাওয়ার দিন শেষ। জনগণের কাছে জামায়াতকে আর ইসলামিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যাবে না।

স্ট্যাটাসের শুরুতে রাশেদ খাঁন লিখেছেন, ‘ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে প্রমাণিত হলো, জামায়াতের জান্নাতের টিকিট আর কোথাও কাজে দেবে না। অভিনন্দন এমপি মির্জা ফয়সল আমীন।’

তিনি আরও লিখেছেন, জনগণ বুঝে গেছে, জামায়াতের মধ্যে ধর্মীয় লেবাসে অসংখ্য গাজী নজরুল ইসলাম রয়েছেন।জামায়াতের নেতাদের ব্যক্তিগত জীবন ও কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন লিখেছেন, প্রতিনিয়ত যে দলের অসংখ্য নেতার পরকীয়ার সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়, যে দল রোজা ও পূজাকে মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ মনে করে, যে দল মনে করে আগে ছিল হিন্দু মানে নৌকা, এবার হবে হিন্দু মানে দাঁড়িপাল্লা।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, যে দলের আইনজীবী শহীদ আবরার ফাহাদের খুনিদের আইনজীবী হন, যে দল সকালে ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলে আর রাতে ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করে, যে দল তার নিজ দলের নেতাকর্মীদের জান্নাতের পথ দেখাতে হিমশিম খাচ্ছে, তারা কীভাবে জনগণকে হেদায়েতের পথ দেখাবে?

ইসলাম নিয়ে জামায়াতের সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন লিখেছেন, ইসলাম নিয়ে জামায়াতের এসব ভণ্ডামি দেখে, একপ্রকার অতিষ্ঠ হয়ে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক জামায়াত সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, যারা জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করবে, তারা পথভ্রষ্ট।

তিনি আরও লিখেছেন, ‘সুতরাং পথভ্রষ্ট জামায়াতের দেখানো জান্নাতের পথে হেঁটে মানুষ আর দাজ্জালের জান্নাতে যেতে আগ্রহী হবে না।’

মুফতি আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে ওয়াজের মাঠে আমির হামজা ও তারেক মনোয়ারের মতো ‘চাপাবাজদের’ নামিয়ে হয়তো নিজেদের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করা যাবে বলে মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, ‘মুফতি আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে ওয়াজের মাঠে আমির হামজা আর তারেক মনোয়ারের মতো চাপাবাজদের নামিয়ে হয়তো নিজ দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করা যাবে, কিন্তু জনগণের কাছে জামায়াতকে আর ইসলামিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যাবে না।’

স্ট্যাটাসের শেষাংশে জামায়াতের শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী।

তিনি লেখেন, যারা বিদেশিদের সঙ্গে বৈঠক করে বলবে, ‘কোথায় বলেছি ক্ষমতায় গেলে শরিয়া আইন কায়েম করব?’ সেই দলকে তো আর ইসলামী দল বলা যায় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *