
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চাঞ্চল্যকর চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। তিন বছর বয়সী এক শিশুকে ৩৭ বছর বয়সী রোগীর জন্য নির্ধারিত ওষুধ দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. নাজমুল সাকিবের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, অসুস্থ শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক দ্রুত প্রেসক্রিপশন দেন। তবে পরবর্তীতে অন্য চিকিৎসকের কাছে গেলে জানা যায়, প্রেসক্রিপশনে উল্লেখিত ওষুধগুলো একটি প্রাপ্তবয়স্ক রোগীর জন্য নির্ধারিত ছিল, যা শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
শিশুটির এক স্বজন অভিযোগ করে বলেন,
“ডাক্তার ঠিকমতো না দেখে ওষুধ লিখে দিয়েছেন। পরে অন্য ডাক্তার দেখিয়ে আমরা বুঝতে পারি, এই ওষুধ ছোট বাচ্চার জন্য না। এতে আমরা খুব আতঙ্কে পড়েছি।”
ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালে উত্তেজনা দেখা দেয়। সচেতন মহল বলছে, এ ধরনের অবহেলা শুধু অনভিপ্রেতই নয়, বরং মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ এবং এর জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. নাজমুল সাকিবের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরও বিষয়টি নিয়ে তেমন কোন গুরুত্ব লক্ষ্য করা যায়নি।
স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রোগীর বয়স ও শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে চিকিৎসা নির্ধারণ করা চিকিৎসকের মৌলিক দায়িত্ব। সেখানে এ ধরনের ভুল পুরো ব্যবস্থার ওপর আস্থা নষ্ট করতে পারে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একই স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আরেক জন চিকিৎসক জানায় একটি ছোট ভুলও হতে পারে বড় বিপদের কারণ—এমন ঘটনাই যেন আবার মনে করিয়ে দিল উজিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই ঘটনা। এখন প্রশ্ন, দায়ীদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে কী উদ্যোগ নেওয়া হবে।
Post Views: 95
Leave a Reply