
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই দেশ ছেড়েছিলেন সাবেক পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সাধারণ যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত বেশ কিছু নিরাপত্তা প্রক্রিয়া এড়িয়ে তিনি বিদেশগামী ফ্লাইটে ওঠেন। সম্প্রতি দুবাইয়ে তার গ্রেফতারের খবর সামনে আসার পর আবারও আলোচনায় এসেছে সেই দেশত্যাগের ঘটনা।
বাংলাদেশ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৩ জুন) দুবাই পুলিশের কাছ থেকে বেনজীর আহমেদের গ্রেফতার সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম। একই তথ্য সংসদেও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এর আগে ২০২৪ সালের ১৮ এপ্রিল বেনজীর আহমেদের সম্পদ অনুসন্ধানে কমিটি গঠন করে দুদক। অনুসন্ধান শুরুর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি দেশ ত্যাগ করেন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ মে রাতে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দুবাইয়ের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সহায়তায় তিনি বিমানবন্দরের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি দেশ ত্যাগ করেন।
ফুটেজে আরও দেখা যায়, নিরাপত্তা তল্লাশি এলাকায় প্রবেশের সময় তার সামনে ও পেছনে পুলিশ সদস্যরা ছিলেন। দেশ ছাড়ার সময় তার সঙ্গে পরিবারের কোনো সদস্য ছিলেন না। সর্বশেষ নিরাপত্তা চেকপয়েন্টে তাকে শারীরিক তল্লাশি ছাড়াই অতিক্রম করতে দেখা যায়, যদিও সাধারণ যাত্রীদের ক্ষেত্রে এ ধরনের তল্লাশি বাধ্যতামূলক।
এছাড়া ইমিগ্রেশন ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তার পাসপোর্ট ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে নথিপত্র ও লাগেজ তার কাছে হস্তান্তর করেন। দেশ ছাড়ার আগে উপস্থিত কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে হাত নেড়ে বিদায় জানাতেও দেখা যায় তাকে।
বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
অবসরের পরও তিনি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সুবিধা ভোগ করছিলেন। তৎকালীন সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তার নিরাপত্তার জন্য সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্য, সশস্ত্র দেহরক্ষী এবং বাসভবনে নিরাপত্তাকর্মী নিয়োজিত ছিল।
দুবাইয়ে গ্রেফতারের পর তার বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত, দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া এবং দেশত্যাগের সময় প্রাপ্ত বিশেষ সুবিধা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।