
কিছুদিন আগেও বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় সোনালি ইরি ধানের ঢেউ খেলানো মাঠে যেন বেজে উঠছিল সুখের সুর। হেলে-দুলে থাকা ধানের শীষে ফুটে উঠেছিল কৃষকের স্বপ্ন, হাসি আর ভবিষ্যতের আশার আলো। কিন্তু হঠাৎ প্রকৃতির বৈরী আচরণে সেই স্বপ্ন আজ পানির নিচে বন্দি।
অবিরাম বৃষ্টিতে উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি তলিয়ে গেছে পানিতে। পাকা ধান কাটার আগেই জমিতে জমে থাকা পানি কৃষকদের চরম বিপাকে ফেলেছে। ফলে কৃষকের চোখে-মুখে এখন শুধু হতাশা আর দুশ্চিন্তা।
কোথাও ধান কাটার মতো শ্রমিকের সংকট, আবার কোথাও কাটা ধান শুকানোর মতো জায়গার অভাব প্রকট হয়ে উঠেছে। উঠান বা খোলা মাঠ না থাকায় অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে রাস্তার ওপর ধান মাড়াই করছেন। তবুও মিলছে না স্বস্তি—আবার বৃষ্টির পানিতে সেই ধান ভিজে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
অনেক ক্ষেত্রে পানিতে ডুবে থাকা ধানে পচন ধরছে, নষ্ট হচ্ছে কৃষকের সারা বছরের পরিশ্রম। এ যেন এক নির্মম বাস্তবতা—প্রকৃতির কাছে অসহায় হয়ে পড়েছেন গৌরনদীর কৃষকরা। চারদিকে শুধু দুঃখের চিত্র, আর বুকভরা দীর্ঘশ্বাস। কৃষকদের কণ্ঠে আজ একটাই আর্তি— “হে মহান রাব্বুল আলামিন, তুমি যে রিজিক দিয়েছিলে, তা আবার তোমারই ইচ্ছায় কেড়ে নিলে। আমাদের এই ক্ষতি সহ্য করার তাওফিক দাও।”
গৌরনদীর মাঠে এখন আর সোনালি স্বপ্নের ঝংকার নেই; আছে শুধুই বেদনার নীরবতা। আর সেই নীরবতার মাঝেই প্রতিধ্বনিত হচ্ছে কৃষকের।