পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় আবারও সাক্ষ্য দিতে আদালতে আসেননি কোনো সাক্ষী। এতে এক সপ্তাহ পিছিয়ে গেছে সাক্ষ্যগ্রহণের কার্যক্রম। নতুন করে আগামী ১৮ অক্টোবর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ঠিক করেছেন আদালত।
রোববার (১১ অক্টোবর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। কোনো সাক্ষী হাজির না হওয়ায় কার্যক্রম এগোয়নি।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রসিকিউটর মীর আহম্মেদ আলী সালাম জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগেও গত ১৭ আগস্ট ও ১০ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত দিনে কোনো সাক্ষী আদালতে হাজির হননি। মামলাটিতে মোট ২৮ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।
দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। তার বিরুদ্ধে ১১ কোটি টাকার বেশি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ নভেম্বর সম্পদের তথ্য গোপন, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন হাফিজুল ইসলাম।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, সম্পদ বিবরণীতে বেনজীর আহমেদ ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য দিয়েছিলেন। কিন্তু তদন্তে তার নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর ও ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এসব সম্পদের মোট মূল্য ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।দুদকের হিসাব অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদের বৈধ আয়ের উৎস থেকে পাওয়া অর্থের পরিমাণ ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা। ব্যয় বাদে নিট সঞ্চয় ছিল ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। এ হিসাবে তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকা বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, এসব অর্থের অবৈধ উৎস, প্রকৃতি ও মালিকানা আড়াল করতে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও যৌথ মূলধনী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও বিনিয়োগ করা হয়েছে।
গত ৮ মার্চ অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। পরে ৩ মে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।












Leave a Reply