সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নজরুল ইসলাম ও সিথি আক্তারকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা তথ্য ছড়াচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, গ্রেপ্তার, বিচারপ্রক্রিয়া ও মৃত্যুদণ্ডের কারণ নিয়ে বিভিন্ন দাবি সামনে এলেও সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত বিবৃতিতে মামলার বিস্তারিত অভিযোগ জানানো হয়নি।
এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের তায়েফের হাওয়ায়া দাওয়াহ সেন্টারের দাঈ আব্দুর রাকিব মাদানির বক্তব্য তুলে ধরে একটি পোস্ট ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন মোক্তার আহমেদ। ওই পোস্টে দুই বাংলাদেশির পরিচয়, কর্মস্থল এবং ঘটনাটির পেছনের কারণ সম্পর্কে আসল ঘটনা জানিয়েছেন।
মোক্তার আহমেদের পোস্টে বলা হয়, নজরুল ইসলাম ও সিথি আক্তার দুজনই সৌদি আরবে বিন লাদেন কোম্পানিতে কাজ করতেন। তারা মক্কার মসজিদুল হারামে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। কর্মস্থলে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে পোস্টে দাবি করা হয়েছে।
পোস্টে তিনি লিখেন:
বাংলাদেশী দুজন – নজরুল ইসলাম এবং সিথি আক্তার। তারা উভয়ই বিন লাদেন কোম্পানিতে চাকরি করতো এবং তারা উভয়ই মক্কাতুল মোকাররামায় মসজিদুল হারামের পরিচ্ছন্ন কর্মী ছিল, মেয়েটির ভিলা ছিলো বাতহা কুরাইশ আর ছেলেটির ভিলা ছিলো হাইয়্যাল ইসকান।
ডিউটি করতে এসে তাদের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক হয়ে যায় এবং তারা মসজিদুল হারামের ৮৫ থেকে ৮৭ নং গেটের মাঝের সিঁড়ির উপরে নির্জন কোঠায় তারা ব্যভিচারে লিপ্ত হয়।
নজরুল ইসলাম তার এক ইন্ডিয়ান বন্ধুকে পাহারা দেওয়ার জন্য নিচে দাঁড়িয়ে থাকতে বলে। সেই বন্ধুটি এই ঘটনার ভিডিও করে। পরে সে নিজেও এই মেয়েটির সাথে ব্যভিচার করার আগ্রহ প্রকাশ করলে, যখন করতে পারে না বা তারা সম্মতি দেয় না, তখন এটা পাবলিশ করে দেয়।
এরপরে ঘটনা জানাজানি হয়ে যায়। সৌদি প্রশাসন তিনজনকেই ধরতে সক্ষম হয়। ইন্ডিয়ান ছেলের ২০ বছর কারাদণ্ড হয়, সে জেলে আছে এবং বাকি যে দুইজন, এই দুইজনকে জেলে রাখা হয়।
নজরুল ইসলাম বাংলাদেশ থেকে আসে নভেম্বরের ১০ থেকে ১৩ তারিখের মাঝে ২০২২ সালে এবং ২০২৩ সালের মে মাসে এই অপকর্ম করে এবং সৌদি প্রশাসনের কাছে ধরা পড়ে এবং জেলে থাকে ২০২৩ এর মে থেকে নিয়ে ২০২৬ এর এই অক্টোবর পর্যন্ত। বিচার কার্য হয়েছে দীর্ঘ সাড়ে তিন-চার বছর।
এর মাঝে সৌদি সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে তার কফিলকে, কোম্পানিকে জানানো। অন্যান্য দেশের মানুষকে জানানো এটা তাদের দায়িত্ব না।

অনেকেই অভিযোগ করছেন যে, এবং ওমরা করতে গেছিল, চুমু দিয়েছিল – এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্য বানোয়াট কথা। তারা অবিবাহিত ছিল, অবিবাহিত ছিল ঠিক আছে, কিন্তু অবিবাহিতর মৃত্যুদণ্ড কেন হবে এখানে? জানেন?! এটা মসজিদুল হারাম। এখানে শুধুমাত্র জেনার শাস্তি নয়, এখানে সে মসজিদুল হারামের হুরমাত, সম্মান নষ্ট করেছে। এর জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য সুপ্রিম কোর্টের বড় বড় বিচারকরা তাজীর হিসাবে মৃত্যূদন্ড উপযুক্ত মনে করেছেন সেই শাস্তি দিয়েছেন। যা কুরআন ও সুন্নাহ সম্মত।”
২০২৩ সালের মে মাসে ওই দুই বাংলাদেশি গ্রেপ্তার হন এবং এরপর দীর্ঘ সময় ধরে বিচারপ্রক্রিয়া চলে। মসজিদুল হারামের পবিত্রতা ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার বিষয়টি শাস্তি নির্ধারণে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল বলেও পোস্টে দাবি করা হয়েছে। তবে মৃত্যুদণ্ডের আইনগত ভিত্তি ও আদালতের যুক্তি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট মামলার রায় ও সরকারি নথি প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, নজরুল ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আব্দুল বাছির ও রহিমা বেগম দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে সবার বড় ছিলেন। পরিবারের ভরণপোষণের প্রধান দায়িত্ব তার ওপর ছিল বলে জানা গেছে।
নজরুলের বাবা তাকে নিজের ছেলে হিসেবে শনাক্ত করলেও জানিয়েছেন, সুইটি আক্তার তার ছেলের স্ত্রী নন। অন্যদিকে, সিথি বা সুইটি আক্তার নামে শনাক্ত হওয়া নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর তার পরিবার নিশ্চিত করতে পারেনি। ওই নারীর বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী গ্রামে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা জানানো হলেও তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, মামলার প্রমাণ, বিচারপ্রক্রিয়া ও রায়ের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বর্ণনাকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে গ্রহণ করার আগে তথ্যগুলো যাচাই করা জরুরি। মামলার প্রকৃত অভিযোগ, মৃত্যুদণ্ডের আইনগত ভিত্তি এবং বিচারিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নিশ্চিত হতে সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক নথি, আদালতের রায় এবং সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রয়োজন।












Leave a Reply