
স্টাফ রিপোর্টার মোঃ মেহেদী হাসান।
বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় যোগদানের পর মাদকবিরোধী অভিযানে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান। তাঁর নেতৃত্বে নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
সূত্র জানায়, বরিশাল জেলা পুলিশের নির্দেশনায় মাদকবিরোধী অভিযানে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে আগৈলঝাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকের সম্ভাব্য স্পট চিহ্নিত করে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন গ্রাম, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত টহলের পাশাপাশি আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করছে থানা পুলিশের একাধিক দল।
এসব অভিযানে ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধারের পাশাপাশি চিহ্নিত মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নেওয়া হচ্ছে। মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়েও পুলিশ তৎপর রয়েছে বলে জানা গেছে।
নিয়মিত মামলা দায়েরের পাশাপাশি মাদকসংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশের পক্ষ থেকে সন্দেহভাজন ও চিহ্নিত মাদক কারবারিদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও বাজারের কিছু এলাকায় মাদক কেনাবেচার অভিযোগ থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বেড়েছে। নিয়মিত পুলিশি টহল ও অভিযান মাদক কারবারিদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে বলে স্থানীয়দের অনেকে জানিয়েছেন।
তবে মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু আইনগত ব্যবস্থা নয়, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ওসি মোহাম্মদ মাসুদ খানের উদ্যোগে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
এ ছাড়া আগৈলঝাড়া থানা পুলিশের উদ্যোগে নিয়মিত কমিউনিটি পুলিশিং সভা ও সচেতনতামূলক সমাবেশ আয়োজন করা হচ্ছে। এসব সভায় স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, জনপ্রতিনিধি ও তরুণদের সম্পৃক্ত করে মাদক, সন্ত্রাস ও বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান ও সামাজিক সচেতনতা কার্যক্রম একসঙ্গে চললে আগৈলঝাড়ায় মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশ ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।