
গৌরনদী উপজেলার বাটাজোড় বাজার এলাকায় জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনতে অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন গৌরনদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মেহেদী হাসান।
অভিযানকালে বাটাজোড় বাসস্ট্যান্ড থেকে সরিকলমুখী সড়কের প্রবেশমুখে অবৈধভাবে স্থাপিত বিভিন্ন দোকানপাট ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এর ফলে দীর্ঘদিনের দখলের কারণে সংকুচিত হয়ে পড়া সড়কটি পুনরায় প্রশস্ত করা সম্ভব হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের চলাচলকে আরও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এর আগে বাটাজোড় এলাকায় জাতীয় মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে নির্মিত একটি লোহার সিঁড়ি অপসারণ করা হয়। একই সঙ্গে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে সংশ্লিষ্টদের জরিমানা করা হয়েছিল এবং সকল অবৈধ দখলদারকে স্বেচ্ছায় স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়। কিন্তু অনেকেই নির্দেশনা অমান্য করায় প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযানে নামে।
এদিনের অভিযানে শুধু সড়ক দখলমুক্ত করাই নয়, বাটাজোড় থেকে সরিকল বন্দর পর্যন্ত খালের পাড় দখল করে গড়ে ওঠা বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করে উচ্ছেদ কার্যক্রমও শুরু করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে খালের দুই পাড়ে দখল ও ভরাটের কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা, পরিবেশগত ক্ষতি এবং স্থানীয় কৃষি কার্যক্রমেও বিরূপ প্রভাব পড়ছিল।
উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, খালটি দখলমুক্ত করা গেলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হবে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে এবং স্থানীয় মানুষের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে।
অভিযান পরিচালনায় সহযোগিতা করেন গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ, বাটাজোড় ইউনিয়ন পরিষদ এবং খাল খনন কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত জনবল। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব, বাটাজোড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আঃ রব হাওলাদার, সরিকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ফারুক মোল্লা, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে গৌরনদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মেহেদী হাসান বলেন,
“সরকারি জমি, খাল ও সড়ক দখল করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবে না। জনগণের চলাচল, পরিবেশ রক্ষা এবং খালের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবে। জনস্বার্থে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, খাল ও সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত রাখতে ভবিষ্যতেও নিয়মিত তদারকি এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাটাজোড় বাজার ও সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ দখলের কারণে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছিল। প্রশাসনের এ অভিযান খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, পরিবেশ রক্ষা এবং জনগণের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জনস্বার্থে গৌরনদী উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের উচ্ছেদ ও দখলমুক্তকরণ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।