চাঁদাবাজির প্রতিবাদে গৌরনদীর টরকী বন্দরের দোকান বন্দ করে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ ও বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ

গৌরনদীতে চাঁদা দাবির প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ

বাংলার বার্তা ডেস্কঃ

উত্তর বরিশালের সর্ববৃহত বানিজ্য বন্দর গৌরনদী উপজেলার টরকী বন্দরের এক চাউল ও মুদির মহাজনি ব্যবসায়ীর কাছে দুই লক্ষ টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় ক্ষুব্ধ বন্দরের ব্যবসায়ীরা সোমবার দুপুরে তাদের দোকানপাট বন্দকরে রেখে বন্দর এলাকায় বিক্ষোভ মিছিলসহ বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।

টরকী বন্দরে চাউল মুদি মালের মহাজনী ব্যবসায়ী কাঁলাচান মন্ডল অভিযোগ করেন, চাঁদাবাজ সিকদার রেজাউল করিম গত কয়েকদিন যাবত তার কাছে ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে।
রোববার সকালে রেজাউলের এক সহযোগীকে চাঁদার টাকা আনতে কাঁলাচানের মহাজনী দোকানে পাঠায়। পরবর্তীতে গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রেজাউল তার কয়েকজন সহযোগীদের নিয়ে কাঁলাচানের দোকানে উপ¯ি’ত হয়ে পূর্বের দাবিকৃত চাঁদার দুই লক্ষ টাকা পুনরায় দাবি করে।

এ সময় ব্যবসায়ী কাঁলাচান টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধরসহ জীবন নাশের হুমকি দেয়। মুহুর্তের মধ্যে এ খবর বন্দরের ব্যবসায়ীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা তাদের দোকান বন্ধ করে রেখে বনিক সমিতির কার্যালয়ের সম্মুখে জড়ো হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে বন্দর এলাকায় বিক্ষোভ মিছির বের করে। মিছিলটি নিয়ে তারা টরকী বাসষ্ট্যান্ডে পৌছে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে।

এ সময় মহাসড়কের দুই দিকে অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়ে। টরকী বন্দর বনিক সমিতির সাধারন সম্পাদক বদিউজ্জামান চঞ্চলের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কোষাধ্যক্ষ ওলিউল ইসলাম, ব্যবসায়ী আবুল কাসেম, লিটন খান, বিশ^জিৎ রায় প্রমুখ।
গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. ইউনুস মিয়া বলেন, ‘খবর পেয়ে দ্রæত ঘটনা¯’লে পৌঁছে অভিযুক্ত সিকদার রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে মামলা সহ আইনি ব্যব¯’া গ্রহনের আশ^াস দিলে ব্যবসায়ীরা দুপুর ১ টার দিকে অবরোধ তুলে নেন এবং দোকান পাট খুলেন।

চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে মুঠো ফোনে সিকদার রেজাউল করিম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথা অপবাদ দেয়া হ”েছ। প্রকৃত ঘটনা হল, ব্যবসায়ী কাঁলাচান মন্ডল তার নিজ গ্রাম কালকিনি উপজেলার ঝুরগাও গ্রামের একটি জমি বেচাকেনা নিয়ে প্রতারণা করেছে। ওই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাক্তি ও ব্যাবসায়ী কালাচান দু’জন মিলে ১৬/১৬দন পূর্বে ঘটনাটি সালিশ মিমাংসার জন্য আমার কাছে আসে। আমি মিমাংসা করে দেই। ইতোমধ্যে সে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাক্তিকে তার পাওনা টাকার কিছু ফেরত ও দিয়েছে। বাকি টাকার জন্য আমি লোক পাঠালে সে টাকা দিতে টাল-বাহানা করে। আজ সকালে আমি নিজে ওই টাকা চাইতে গেলে সে আমাকে চাঁদাবাজীর অপবাদ দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *