বরিশালের সবগুলো নদ-নদীর পানি বিপদ সীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে

বাংলার বার্তা ডেস্ক : শ্রাবণ-ভাদ্রের অমাবস্যার মরা কাটালে ভর করে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট পর পর দুটি লঘুচাপ থেকে সুস্পষ্ট লঘুচাপের পরে নিম্নচাপে ফুঁসে ওঠা সাগরের পানির সাথে উজানের ঢল ও গত কয়েক দিনের মাঝারি থেকে প্রবল বর্ষণে বরিশাল সহ সন্নিহিত এলাকার নদ-নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বরিশাল হাইড্রোলজি উপ-বিভাগের ১৮টি গেজ স্টেশনের সমীক্ষায় ১৩টিতেই পানি বিপদসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে উজানের ঢলের পানি সাগরে প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। সারা দেশের নদ-নদীর পানির ৭০ ভাগই মেঘনা দিয়ে বঙ্গোপসাগরে প্রবাহিত হয়ে থাকে। ফলে এ অঞ্চলের অনেক নিম্নাঞ্চল জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হচ্ছে।

কিন্তু মেঘনা, সুরমা, তেঁতুলিয়া, বলেশ্বর, কঁচা, বুড়িশ্বর, বিষখালী, সন্ধ্যা, সুগন্ধা, পায়রা ও ধর্মগঞ্জ সহ সবগুলো নদ-নদীর পানিই গত ৩দিন ধরে বিপদ সীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে।

ফলে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে চলতি খরিপ-২ মৌসুমে যে প্রায় ৯ লাখ হেক্টরে আমন আবাদের মাধ্যমে ২৪ লাখ টন চাল ঘরে তোলার কথা তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার সাথে দুশ্চিন্তায় কৃষিযোদ্ধাগণ। আমন এখনো এ অঞ্চলের প্রধান দানাদার খাদ্য ফসল। ইতোমধ্যে প্রায় ৪০ ভাগ আমন রোপণ শেষ হলেও বিপুল পরিমাণ বীজতলাও ঝুঁকির মুখে।

 

বরিশালের কীর্তনখোলা, সুগন্ধা,সন্ধ্যা, ভোলার মেঘনা ও সুরমা, ঝালকাঠী, বিষখালী, পিরোজপুরের বলেশ্বর ও কঁচা, বরগুনার বিষখালী ও খাকদোন, পটুয়াখালীর লোহালিয়া ও পায়রা সহ সবগুলো নদীর পানিই বিপদ সীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে।

 

অপরদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপের প্রভাবে বরিশাল সহ সন্নিহিত এলাকায় কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অফিস। এমনকি আগামী ৪ দিনের পরবর্তী পাঁচ দিনেও বরিশাল সহ সংলগ্ন উপকূলভাগে বৃষ্টিপাতের বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। সোমবার সকাল ৬টার পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় বরিশালে প্রায় ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পরে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আরো ২৫ মিলি বৃষ্টি ঝরেছে।

এদিকে বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চলের সবগুলো নদী বন্দরকে গত সপ্তাহখানেক ধরেই ১ নম্বর সতর্ক সংকেতের আওতায় রাখা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *