
বছর সাতেক আগে বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের সাজা পাওয়া তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে এখন বরিশাল কারাগারে রাখা হয়েছে। সেখানে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত চার নারীর সঙ্গে সময় কাটছে তার।
সাক্ষাতের সুবিধার্থে বাবার অনুরোধে মিন্নিকে গত মে মাসে কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে বরিশালে স্থানান্তর করা হয়।
সহকারী কারা মহাপরিদর্শক জান্নাত উল ফরহাদ বলেন, “মিন্নি বর্তমানে বরিশাল কারাগারে রয়েছেন। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় তাকে নিয়ম অনুযায়ী অন্য (সাধারণ) বন্দিদের থেকে আলাদা রাখা হয়েছে। তার সাথে আরো চার মহিলা ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি আছে।”
মিন্নির সঙ্গে প্রায়ই তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর দেখা করতে আসেন জানিয়ে কারা অধিদপ্তরের এ কর্মকর্তা বলেন, কাশিমপুরে গিয়ে দেখা করতে অসুবিধা হওয়ায় মিন্নির বাবার আবেদনে তাকে বরিশাল কারাগারে রাখা হয়েছে।
বরিশাল কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা বলেন, “বরিশাল কারাগারে মিন্নিসহ পাঁচ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছে। তাদের একসাথে রাখা হয়েছে।”
কারা কর্মকর্তারা জানান, মিন্নি নামাজ-রোজা করে সময় কাটান। সঙ্গে থাকা অন্য বন্দিদের থেকে তিনি নিজেকে আলাদা রাখার চেষ্টা করেন। কারাগার থেকে যেসব খাবার দেওয়া হয়, সেগুলোই তিনি খেয়ে থাকেন।
২০১৯ সালের ২৬ জুন ভরদুপুরে বরগুনা জেলা শহরের কলেজ রোডে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় রিফাতকে। ওই ঘটনার একটি রোমহর্ষক ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে শুরু হয় আলোচনা।
সেই ভিডিওতে দেখা যায়, দুই যুবক রামদা হাতে রিফাতকে একের পর এক আঘাত করে চলেছে। আর তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি স্বামীকে বাঁচানোর জন্য হামলাকারীদের ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।
ওই ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে বরগুনা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় মিন্নিকে ১ নম্বর সাক্ষী করা হয়।
মিন্নির শ্বশুরই পরে হত্যাকাণ্ডে পুত্রবধূর জড়িত থাকার অভিযোগ তুললে আলোচনা নতুন মোড় নেয়। ১৬ জুলাই মিন্নিকে বরগুনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে সেদিন রাতে তাকে রিফাত হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এর মধ্যে ২ জুলাই মামলার প্রধান সন্দেহভাজন সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। পরের বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর মিন্নিসহ ছয় আসামির ফাঁসির রায় হয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে মিন্নি উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন।
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের দিকে বিশেষ নজর রাখা হয় জানিয়ে সহকারী কারা মহাপরিদর্শক জান্নাত উল ফরহাদ বলেন, “আদালতের কার্যক্রম দেখে যাদের সময় কিছুটা ঘনিয়ে আসে, তাদের ক্ষেত্রে নজরটা বেশি থাকে এবং এবং তাদের কাছে এমন কিছু দেওয়া বা রাখা হয় না যে, তার কোনো দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে।”