ব্রাহ্মণপাড়ার নাল্লা গ্রামে চার বছর পরও চালু হয়নি কমিউনিটি ক্লিনিক,সেবা বঞ্চিত এলাকার মানুষ।

অনিক কুমার দাস,কুমিল্লা সদর উপজেলা প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের নাল্লা গ্রামে ২০১৮ সালে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়া কমিউনিটি ক্লিনিকটি আজও কার্যক্রম শুরু করেনি। ২০২২ সালে ভার্চুয়ালি উদ্বোধন হলেও এর কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় এখানকার হাজার হাজার মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়েছে। ক্লিনিকটির দরজায় এখনও ঝুলছে তালা, আর ভেতরে অবস্থা বেশ করুণ। বকাটেদের আড্ডা চলছে এখানে, জানালার গ্লাস ভেঙে গেছে, পানির ট্যাংকি চুরি হয়ে গেছে এবং শুরুতে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও বর্তমানে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। দেওয়ালের প্লাস্টার ঝরঝর হয়ে যাচ্ছে এবং দেয়ালে ফাটল ধরেছে। ধুলোবালি ও মাকড়োশার জাল দিয়ে ভরে গেছে কক্ষগুলো। এই অবস্থায়, এলাকার মানুষ চিকিৎসা সেবা পেতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশায় সরকারের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানায়, কমিউনিটি ক্লিনিকটির নির্মাণ কাজ ২০১৮ সালে শেষ হলেও ২০২২ সালে ভার্চুয়ালি এর উদ্বোধন করা হয়। তবে, উদ্বোধনের পরও কার্যক্রম শুরু হয়নি। এতে করে এলাকার মানুষদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে, বয়স্ক, শিশুসহ নানা রোগে আক্রান্ত মানুষদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এই ক্লিনিকটি কার্যক্রম শুরু না হওয়ার কারণে তাদের চিকিৎসা সেবার জন্য দূরবর্তী হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে বাধ্য হচ্ছেন, যা তাদের জন্য অনেকটাই কষ্টকর।

এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, ‘‘এই এলাকার মানুষরা অনেকদিন ধরে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। কমিউনিটি ক্লিনিকটি আমাদের একমাত্র আশার জায়গা ছিল। তবে, এটি উদ্বোধনের চার বছর পরেও কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় আমরা বিপাকে পড়েছি।’’ তারা আরও বলেন, ‘‘এখনো পর্যন্ত ক্লিনিকটি চালু না হওয়ায়, স্থানীয়ভাবে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন এমন কোনো ব্যক্তিকে চিকিৎসা দিতে না পারার কারণে তাদের প্রাণনাশের শঙ্কা দেখা দিতে পারে।’’

এই বিষয়ে স্থানীয় দুলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনিসুর রহমান রিপন ভূইয়া বলেন, ‘‘আমরা অনেকবার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি, তবে আজও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এলাকার জনগণের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। আমরা চাই, দ্রুত এই ক্লিনিকটি চালু হোক, যাতে এলাকার মানুষ সঠিক চিকিৎসা সেবা পেতে পারে।’’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শেখ হাসিবুর রেজা বলেন, ‘‘কমিউনিটি ক্লিনিকটি চালু করতে বেশ কিছু প্রশাসনিক জটিলতা ছিল। তবে, আমরা দ্রুত এই ক্লিনিকটি সচল করার জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছি। আশা করছি, শীঘ্রই এই ক্লিনিকটি পূর্ণরূপে চালু হয়ে এলাকার জনগণের সেবা দিতে সক্ষম হবে।’’

এলাকার বাসিন্দারা আশা করছেন, সরকার শীঘ্রই এই কমিউনিটি ক্লিনিকটি চালু করবেন। এলাকার জনগণের জন্য কমিউনিটি ক্লিনিকটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সরকারের দ্রুত উদ্যোগে এটি সঠিকভাবে চালু হলে, এলাকার মানুষ তাদের স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারবেন এবং বিপদের সময় চিকিৎসা সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *