
মোঃ জুনায়েদ খান সিয়াম:
পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যার কারণে দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে যেতে পারেনি তুবা বিনতে অরনি। অবশেষে বৃহস্পতিবার (১
অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজার সহযোগিতায় বিদ্যালয়ে ফিরেছে সে।
ইউএনও নিজেই তুবাকে বিদ্যালয়ে নিয়ে যান। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাকে স্বাগত জানান। দীর্ঘদিন পর বিদ্যালয়ে ফিরতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেছে তুবা।
তুবার বাবা অনিককে ঘিরে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। বামরাইল বাজারে অনিককে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় তুবা। সেখানে বাবাকে বাঁধা অবস্থায় দেখে বাজার থেকে চা-রুটি এনে নিজের হাতে তাকে খাওয়ায় সে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।
পরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনিককে চিকিৎসার জন্য পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে তুবার পড়াশোনা অব্যাহত রাখার বিষয়েও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মামুন বলেন, দীর্ঘদিন পর তুবা বিদ্যালয়ে ফিরেছে। তার পড়াশোনার প্রতি বিশেষ নজর রাখা হবে।
ইউএনও মো. আলী সুজা বলেন, ‘পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যার কারণে তুবা এতদিন স্কুলে যেতে পারেনি। বিষয়টি দুঃখজনক। তার পড়াশোনা যাতে আর বন্ধ না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।’
বিদ্যালয়ে ফিরে তুবা বলে, ‘দীর্ঘদিন পর বিদ্যালয়ে আসতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।’
তুবার মা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘আমার মেয়ে দীর্ঘদিন পর আবার স্কুলে যেতে পেরেছে। এজন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উজিরপুর উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি জিয়া আমিন রাড়ী, উজিরপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক নাজমুল হক মুন্না, সদস্য গোলাম মোস্তফা আকাশ প্রমুখ।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, তুবার পড়াশোনা অব্যাহত রাখার বিষয়টি প্রশাসনের নজরদারিতে থাকবে। পাশাপাশি অনিক চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরলে তাকে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।












Leave a Reply