
মোঃ জুনায়েদ খান সিয়াম, উজিরপুর।
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেন এক অনিয়মের আতুরঘর। দীর্ঘদিন ধরে কুকুর-বিড়ালের কামড় ও আঁচড়ের প্রতিষেধক রেবিস ভ্যাক্সিনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ঔষধের ঘাটতির অভিযোগও উঠেছে। প্রতিদিন উজিরপুর উপজেলা সহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাজার হাজার রোগী আসেন এই হাসপাতালে। ডাক্তারের তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি।
অপরদিকে চিকিৎসকরা ক্লিনিক ও ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের খুশি করতে সাধারণ রোগীদেরকে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি টেস্ট ও ঔষধ লিখতে বাধ্য হচ্ছেন বলে রোগীদের অভিমত। জরুরি ও সঠিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কুকুর, বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর কামড়ে আহত রোগীরা চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে আসছেন। কিন্তু হাসপাতালে এসে তারা জানতে পারছেন—জীবনরক্ষাকারী রেবিস ভ্যাক্সিন নেই। ফলে বাধ্য হয়ে রোগীদের বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কিংবা অন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জরুরি মুহূর্তে ভ্যাক্সিন না পাওয়ায় তারা চরম ভোগান্তি ও আতঙ্কের মধ্যে পড়ছেন। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ঔষধেরও ঘাটতি রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, পার্শ্ববর্তী গৌরনদীসহ আশপাশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত রেবিস ভ্যাক্সিন সরবরাহ থাকলে ও উজিরপুরে দীর্ঘদিন ধরে এই সংকট বিরাজ করছে। বিষয়টি একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ তাদের। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, কুকুর বা বিড়ালের কামড় কিংবা আঁচড়ের পর দ্রুত রেবিস ভ্যাক্সিন গ্রহণ না করলে প্রাণঘাতী জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি আরও বেশি।
এ বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ মাইদুল ইসলাম জানান, “উক্ত বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে চাহিদাপত্র পাঠানো হবে।”
এদিকে রেবিস ভ্যাক্সিন সংকট, প্রয়োজনীয় ঔষধের ঘাটতি এবং বিভিন্ন চক্রের অভিযোগসহ সার্বিক সেবা ব্যবস্থার দুর্বলতায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত পর্যাপ্ত ভ্যাক্সিন ও ঔষধ সরবরাহ নিশ্চিত করে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার দাবি জানিয়েছেন।