মেয়েটি নিজের জীবন বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা করেও পেরে ওঠেনি

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) হত্যার ঘটনাস্থলজুড়ে তাণ্ডবের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাকে হত্যার স্থানটিতে অন্তত ৪ থেকে ৫টি ধানক্ষেতে দৌড়াদৌড়ি ও ধস্তাধস্তির চিহ্ন পাওয়া যায়।

বৃহস্পতিবার লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার ফসলি জমির মাঠে এ চিত্র দেখা গেছে। সেখানকার একটি ধানক্ষেত থেকে পুলিশ এ স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার করে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা মো. হাসান বলেন, সকালে লোকমুখে শুনতে পাই ধানক্ষেতে একটি সিএনজি পড়ে আছে। খবর শুনে ঘটনাস্থলে এসে দেখি ঘটনা সত্যি। সিএনজিটির ২০ থেকে ৩০ গজ দূরেই একটি ভ্যানিটি ব্যাগ দেখতে পাই। পাশাপাশি আশপাশের ধানক্ষেতগুলোতে ছিল ধস্তাধস্তি ও দৌড়াদৌড়ির চিহ্ন। সেই চিহ্ন অনুসরণ করে একটু সামনে গিয়ে দেখি এক নারীর লাশ পড়ে আছে। লাশের মুখ কাদায় গোঁজা এবং পুরো শরীর বস্ত্রহীন ছিল আর গলায় প্যাঁচানো ছিল গামছা। পরে লোকজন জড়ো হতে থাকলে গামছা দিয়ে শরীর ঢেকে দিই এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে জানাই। খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। সংবাদপোর্টা

 

মো. মুহিন নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, যারাই মেয়েটিকে মেরেছে, খুব কষ্ট দিয়ে মেরেছে। ধানক্ষেতের অবিন্যস্ত অবস্থা দেখলেই তা বোঝা যায়। মেয়েটি নিজের জীবন বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেও পেরে ওঠেনি। সিএনজিটি এভাবে ধানক্ষেতে কেন পড়ে ছিল—তা বুঝে উঠতে পারছি না। এটি যদি হত্যাকারীদের হয়, তবে তারা সেটি ফেলে গেল কেন এবং কীভাবে পালিয়ে গেল? আশা করি পুলিশি তদন্তে সব রহস্য বের হয়ে আসবে।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস জানান, বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই থানার ওসির মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারি। লাশ শনাক্ত করা হয়েছে এবং লাশের পাশ থেকে একটি সিএনজি উদ্ধার করা হয়েছে। সিএনজিচালককে ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে। মেয়েটির গলায় গামছা পেঁচানো ছিল, তবে শরীরে কোনো বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। লাশ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে; ময়নাতদন্তের পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। যে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে জান্নাতুল বাসা থেকে বের হয়েছিল, তার মোবাইল ট্র্যাকিং করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তবে তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে তার নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।

 

এদিকে, তাজমিনের লাশ নিয়ে স্বজনরা যশোরের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছেন। ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধ্যা ৭টার দিকে কুমিল্লা থেকে যশোরের দিকে রওয়ানা দেন তারা। সন্ধ্যা ৭টায় কুমিল্লা রেসকোর্স ধানমন্ডি রোডের ‘ডুভিন প্লেইস’র ১৬০৬ নম্বর বাসায় দেখা যায় দরজায় তালা ঝুলছে।

 

ভবনের নিরাপত্তাপ্রহরী জানান, মাগরিবের নামাজের পর সবাই যশোরের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছেন। যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা এলাকায় নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *