
বাবার সঙ্গে খুনসুটির সেই স্মৃতিময় ছবিই এখন কাঁদাচ্ছে সবাইকে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভেসে বেড়াচ্ছে ছোট্ট সোনামণি তাহমিদা জান্নাত তাহেরার সঙ্গে বাবার খুনসুটির অসংখ্য স্মৃতিময় ছবি।
কিন্তু যে ছবিগুলো একসময় ছিল একজন বাবার সুখের মুহূর্তের স্মৃতি, আজ সেই ছবিগুলোই যেন হয়ে উঠেছে বুকভাঙা কান্নার কারণ।
১৫ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে আসে সেই দুঃসংবাদ—পানিতে পড়ে মাত্র দুই বছরের শিশু তাহমিদা জান্নাত তাহেরা আর নেই। আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে চিরদিনের জন্য না ফেরার দেশে চলে গেছে ছোট্ট এই শিশুটি।
এমন সংবাদ যে কোনো বাবাকেই মুহূর্তের জন্য নিস্তব্ধ করে দিতে পারে। আর তাহমিদার বাবা হাফেজ মো. হামিদুল্লাহর জন্য যেন মুহূর্তেই থমকে গেছে পৃথিবী।
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লক্ষ্মীপাশায় ২০২৪ সালের ৩ জুন হাফেজ মো. হামিদুল্লাহ ও তার পরিবারের ঘর আলো করে জন্ম নেয় তাহমিদা জান্নাত তাহেরা। জন্মের পর থেকেই ছোট্ট তাহমিদা হয়ে ওঠে পরিবারের সবার আদরের ধন, আর বাবার চোখের মণি।
কর্মব্যস্ততার কারণে বাবা কিছুটা সময় পরিবার থেকে দূরে থাকলেও, অবসর পেলেই ছুটে যেতেন প্রিয় সন্তান ও পরিবারের কাছে। সেই সময়গুলোতেই বাবার সঙ্গে ছোট্ট তাহমিদার জমে উঠত খুনসুটি—হাসি, আনন্দ আর ভালোবাসায় ভরে উঠত ঘরের প্রতিটি মুহূর্ত।
সেইসব মুহূর্তের ছবিই এখন ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ছবিগুলো দেখলে বোঝা যায়, বাবা-মেয়ের সম্পর্কটা কতটা গভীর ছিল। অথচ আজ সেই ছবিগুলোই যেন প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে—এত হাসিখুশি শিশুটি কীভাবে এত দ্রুত স্মৃতি হয়ে গেল?
২০২৬ সালের ৩ জুন তাহমিদার দুই বছর পূর্ণ হলে বাবা হামিদুল্লাহ তার ফেসবুক পেজে আদরের সন্তানকে নিয়ে একটি পোস্টও দেন। সেদিন যে শিশুর জন্মদিনের আনন্দ ভাগাভাগি করেছিলেন তিনি, মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে সেই শিশুর জানাজায় দাঁড়াতে হবে—এমন নির্মম বাস্তবতা হয়তো কোনো বাবাই কল্পনা করতে পারেন না।
তাহমিদার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বাবার সঙ্গে তার পুরোনো ছবিগুলো দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ছেন স্বজন, পরিচিতজন ও নেটিজেনরা।
মঙ্গলবার আসরের নামাজের পর ছোট্ট তাহমিদা জান্নাত তাহেরার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
একটি ছোট্ট প্রাণ, দুই বছরের ছোট্ট একটি জীবন—যার পৃথিবীটা ছিল বাবা-মায়ের ভালোবাসায় ভরা।
আজ সেই পৃথিবীর মানুষগুলোই তাকে বিদায় জানিয়ে ফিরে এসেছেন শূন্য হাতে।
বাবার মোবাইল, ফেসবুক আর স্মৃতির পাতায় এখনো হয়তো ভেসে উঠবে সেই ছোট্ট মুখ, সেই হাসি, সেই খুনসুটির মুহূর্ত।
কিন্তু বাস্তবতা বড় নির্মম—
ছবিতে থাকবে তাহমিদার হাসি, অথচ সেই হাসির মানুষটি আর কোনোদিন ফিরে আসবে না।
আল্লাহ তায়ালা ছোট্ট তাহমিদা জান্নাত তাহেরাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই অপূরণীয় শোক সহ্য করার শক্তি দিন।