গৌরনদীতে নিঃসন্তান বিধবা কনক হালদারের চাওয়া একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই।

মোঃ মেহেদী হাসান।

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের পশ্চিম সোমাদ্দারপাড় গ্রামে (সোমাদ্দারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন) জরাজীর্ণ একটি ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ৭০ বছর বয়সী নিঃসন্তান বিধবা কনক হালদার। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তাঁর একমাত্র চাওয়া—নিরাপদে মাথা গোঁজার একটু ঠাঁই।
গত ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জরাজীর্ণ একটি ছোট্ট ঘরে বসবাস করছেন কনক হালদার। ঘরটির অবস্থা এতটাই নাজুক যে, একটু জোরে বাতাস বইলেই ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্ষাকালে ছাদ দিয়ে পানি পড়ে, আর শীতের সময় ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ে হিমেল হাওয়া। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই কাটছে তাঁর দিন-রাত।
কনক হালদার প্রয়াত দীনবন্ধু হালদারের স্ত্রী। স্বামী-সন্তানহীন এই বৃদ্ধার জীবনে এখন নিত্যসঙ্গী দুশ্চিন্তা আর অনিশ্চয়তা। জরাজীর্ণ ঘরটিই তাঁর একমাত্র আশ্রয়।
স্থানীয়রা জানান, অন্যের সহায়তায় কোনোমতে দিন পার করছেন কনক হালদার। বয়সের ভারে ন্যুব্জ এই নারীর নিজের বলতে তেমন কিছুই নেই। নিরাপদে বসবাসের উপযোগী একটি ঘর তাঁর জন্য এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।
এ বিষয়ে পরিবেশকর্মী সৈয়দ মাজারুল ইসলাম রুবেল বলেন, “বিধবা ও নিঃসন্তান কনক হালদারের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। সরকারি-বেসরকারি সহায়তা কিংবা হৃদয়বান ব্যক্তিদের সহযোগিতায় তাঁর জন্য একটি ছোট ঘরের ব্যবস্থা করা গেলে জীবনের শেষ সময়ে তিনি অন্তত একটু নিরাপদে থাকতে পারবেন।”
তিনি কনক হালদারের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও মানবিক মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
জীবনের শেষ সময়ে এসে কনক হালদারের চাওয়া খুব বেশি নয়—ঝড়-বৃষ্টি থেকে বাঁচার মতো একটি নিরাপদ ঘর। সমাজের সহৃদয় ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এগিয়ে এলে হয়তো তাঁর জীবনে ফিরতে পারে একটু স্বস্তি, কাটতে পারে অনিশ্চয়তার দিনগুলো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *